Shiv Tandav Stotram – শিব তাণ্ডব স্তোত্রম: অর্থ, মাহাত্ম্য, অমর সৃষ্টি
বলা হয়ে থাকে যে সনাতন ধর্মের যে মন্ত্রগুলা রয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী মন্ত্র হচ্ছে শিব তাণ্ডব স্তোত্রম (Shiv Tandav Stotram) । একে অনেকে শুধু মন্ত্র বলেই ক্ষান্ত হয়, কিন্তু আসলে এটি শুধু মন্ত্রই নয়, এটি দেবাদিদেব মহাদেবের রুদ্র রূপ, তার শক্তি সৃষ্টির আদিম সত্তার বহিঃপ্রকাশ। আজকের এই আর্টিকেলে আমি এক্কাধারে শিব তান্ডব স্তোত্রম এর পাশাপাশি এর ইতিহাস, গভীর অর্থ এবং এর আধ্যাত্মিক গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
১. শিব তাণ্ডব স্তোত্রের উৎপত্তি ও ইতিহাস (The Legend of Ravan)
লংকাধিপতি রাবণ হলেন শিব তান্ডব স্তোত্রম এর রচয়িতা। তিনি একাধারে শিবের পরম ভক্ত, এবং বেদের উপর ছিলো তার গভীর জ্ঞান। । রাবণ তার দম্ভের কারণে একবার শিবের নিবাস কৈলাসকেই উপড়ে ফেলার চেষ্টা করে। দেবাদিদেব মহাদেব তখন উনার পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে কৈলাস পর্বতকে সামান্য চেপে ধরেন নিচের দিকে। যার ফলশ্রুতিতে রাবনের হাত কৈলাসের নিচে চাপা পড়ে যায় আর সে ব্যাথায় কাতর হয়।
ব্যাথায় কাতরাতে কাতরাতে রাবণ তখন মহাদেবের স্তব করা শুরু করেন। আর সেই সময় তার মুখ থেকে এই সুন্দর ছন্দময় স্তোত্রটি আসে। রাবণের প্রবল ভক্তি আর স্তোত্রমের শব্দতরংগে মহাদেব তুষ্ঠ হহয়ে রাবণকে ক্ষমা করে দেন। আর এভাবেই আমরা পেয়ে যাই এই পাওয়ারফুল শিব তান্ডব স্তোত্রম (Shiv Tandav Stotram) ।
২. শিব তাণ্ডব স্তোত্রের গঠন ও ছন্দের মাহাত্ম্য
এই স্তোত্রটি ‘পঞ্চচামর’ ছন্দে রচিত। পঞ্চচামর একটি বিশেষ মাত্রাবৃত্ত ছন্দ, এর রয়েছে একটি নির্দিষ্ট গঠনশৈলী এবং নির্দিষ্ট তাল। ।এতে মোট ১৫টি শ্লোক রয়েছে। এর প্রতিটি শব্দে একটি বিশেষ কম্পন (Vibration) তৈরি হয় যা সরাসরি মানুষের মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে।
- শব্দ চয়ন: এতে জটা, গঙ্গা, অগ্নি এবং সর্পের মতো প্রতীকী শব্দ বারবার ব্যবহৃত হয়েছে।
- গতি: পাঠ করার সময় এটি একটি নির্দিষ্ট গতি বা তালের সৃষ্টি করে, যা শুনতে অনেকটা ডমরুর শব্দের মতো মনে হয়।
- অক্ষরঃ প্রতি ছন্দে ১৬টি অক্ষর থাকে, ।
- বিশেষতাঃ ‘তড়িৎ গতি’ হচ্ছে এর বিশেষতা। এটি যে ছন্দে রচিত তা ব্যক্তির ভেতরে সাহস যোগায়।
- প্রভাবঃ শিব তান্ডব স্তোত্র অত্যন্ত শক্তিশালি, এর শব্দতরঙ্গ সরাসরি আমাদের মস্তিষ্কের নিউরনকে উদ্দীপিত করে, যার ফলে দীর্ঘক্ষণ এটি শুনলে বা পাঠ করলে শরীর ও মনে এক ধরনের আধ্যাত্মিক শিহরণ অনুভূত হয়।

৩. তাণ্ডব নৃত্যের আধ্যাত্মিক ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা
তান্ডব মানেই কি কেবল ধ্বংস??? অনেক মানুষজন এটা মনে করলেও প্রকৃত প্রেক্ষাপট কিন্তু আলাদা। শিবের তাণ্ডব মূলত দুই প্রকার:
- রুদ্র তাণ্ডব: যা মহাবিশ্বের জরাজীর্ণ ও নেতিবাচক শক্তিকে ধ্বংস করে নতুন সৃষ্টির পথ প্রশস্ত করে। এটি মূলত ধ্বনহসের মাধ্যমে সৃষ্টিকে বুঝায়। এর মাধ্যমে তীব্র ক্রোধ ও শক্তির বহিঃপ্রকাশ হয়ে থাকে। এছাড়াও আধ্যাত্মিক অর্থে একে ব্যাক্তির অহং বিনাশের প্রক্রিয়াকে বুঝায়।
- আনন্দ তাণ্ডব: যা সৃষ্টির উল্লাস এবং অসীম আনন্দের প্রতীক।এটি শান্ত, সৌম্য এবং আনন্দময়।
বৈজ্ঞানিক সংযোগ: আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানে ‘কসমিক ড্যান্স’ বা মহাজাগতিক নৃত্যের সাথে শিবের তাণ্ডবের তুলনা করা হয়। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থিত বিখ্যাত গবেষণাগার CERN-এর সামনে নটরাজ (শিবের নৃত্যরত রূপ) মূর্তির অবস্থান এর অন্যতম বড় প্রমাণ।
৪. শিব তাণ্ডব স্তোত্র পাঠের উপকারিতা
আধ্যাত্মিক এবং মানসিক—উভয় দিক থেকেই এর অনেক উপকারিতা রয়েছে:
- মানসিক একাগ্রতা বৃদ্ধি: মানসিক একাগ্রতা বৃশিতে এই মন্ত্র দারুণ কাজ করে। কারণ এই স্তোত্রের শব্দগুলো বেশ জটিল। কেউ যদি এটি সঠিক উচ্চারণে পাঠ করার চেষ্টা করে তাহলে তার মনোযোগ বা Concentration ক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যায়।
- নেতিবাচকতা দূর: এটি বিশ্বাস করা হয় যে, এই শিব তান্ডব স্তোত্র পাঠ করলে চারপাশের থাকা নেতিবাচক শক্তি বা ‘Evil Energy’ দূর হয় এবং ঘরে পজিটিভ ভাইব তৈরি হয়।।
- বাকপটুতা ও শুদ্ধ উচ্চারণ: যেহেতু এই স্তোত্রের শব্দগুলো বেশ জটিল, সংস্কৃতের এই কঠিন শব্দগুলো নিয়মিত উচ্চারণ করলে বাচিক জড়তা কাটে এবং স্পষ্ট কথা বলার ক্ষমতা তৈরি হয়।
- শনির দশা ও গ্রহদোষ মুক্তি: জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, যাদের কুণ্ডলীতে শনি বা রাহু-কেতুর অশুভ প্রভাব রয়েছে, তাদের জন্য শিব তাণ্ডব স্তোত্রম একটি রক্ষা কবচের মতো কাজ করে।। এটি অনেকেই বলে থাকেন যে শিব তান্ডব স্তোত্র পাঠে শনির প্রকোপ কম থাকে।
- আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি: এর ছন্দ এবং বীরত্বব্যঞ্জক শব্দগুলো মানুষের ভেতরের ভয় দূর করে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনে।
৫. কিভাবে পাঠ করবেন? (সঠিক নিয়ম)
শিব তাণ্ডব স্তোত্র পাঠ এর পূর্ণ সুফল পাওয়ার জন্য কিছু নিয়ম শৃংখলা মেনে এটি পাঠ করা উচিত। আগেই বলেছি সনাতন ধর্মে সবচেয়ে শক্তিশালী মন্ত্রের ১টি হচ্ছে শিব তান্ডব স্তোত্রম। কাজেই কিছু নিয়ম নীতি তো অবশ্যই মানতে হয়।
- সময় নির্বাচন: এই স্তোত্রম পাঠ করার শ্রেষ্ঠ সময় হলো ‘ব্রহ্ম মুহূর্ত’ । (ভোর ৪টা থেকে ৬টা) অথবা সন্ধ্যাবেলা (প্রদোষ কাল)।
- শুচিতা: স্নান শেষ করে, পরিষ্কার পোশাকে পূর্ব বা উত্তর দিকে মুখ করে বসা উচিত। চেষ্টা করুন সামনে একটি শিবলিঙ্গ বা মহাদেবের ছবি রাখার, এগুলো সামনে থাকলে একাগ্রতা বাড়ে।
- উচ্চারণে সতর্কতা: যেহেতু এটি পঞ্চচামর ছন্দে রচিত, তাই এর গতি বা তালের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। ভুল উচ্চারণে পাঠ না করে প্রথমে ভালো কোনো উৎস থেকে এর অডিও শুনে উচ্চারণ রপ্ত করে নেওয়া ভালো।
- অহংকার বর্জন: মনে রাখবেন, এটি লংকাধিপতি রাবণ লিখেছিলেন তাঁর অহংকার চূর্ণ হওয়ার পর। তাই আপনি যখন পাঠ করবেন তখন পূর্ণ বিনয় এবং ভক্তির সাথে এি শিব তান্ডব স্তোত্রম পাঠ করবেন।
- নিয়মিত অভ্যাস: মাঝেমধ্যে পাঠ না করে প্রতিদিন অন্তত একবার পাঠ করার চেষ্টা করুন। প্রতিদিন ১বার পাঠ করলে এর কম্পন বা ভাইব্রেশন আপনার অবচেতন মনে স্থায়ী প্রভাব ফেলবে।

SHIV TANDAV STOTRAM – শিব তান্ডব স্তোত্রম
জটাটবী গলজ্জল প্রবাহপাবিতস্থলে
গলেবলংব্য় লংবিতাং ভুজংগতুংগ মালিকাম্ ।
ডমড্ড মড্ড মড্ড মন্নিনাদবড্ড মর্বয়ং
চকার চংডতাংডবং তনোতু নঃ শিবঃ শিবম্ ॥ 1 ॥
জটাকটাহসংভ্র মভ্রমন্নিলিংপনির্ঝরী-
-বিলোলবীচিবল্লরী বিরাজমানমূর্ধনি ।
ধগদ্ধগদ্ধগজ্জ্ব লল্ললাটপট্টপাবকে
কিশোরচংদ্র শেখরে রতিঃ প্রতিক্ষণং মম ॥ 2 ॥
ধরাধরেংদ্রনংদিনী বিলাসবংধুবংধুর
স্ফুরদ্দিগংতসংততি প্রমোদমানমানসে ।
কৃপাকটাক্ষ ধোরণীনিরুদ্ধদুর্ধরাপদি
ক্বচিদ্দিগংবরে মনো বিনোদমেতু বস্তুনি ॥ 3 ॥
জটাভুজংগপিংগল স্ফুরত্ফণামণিপ্রভা
কদংবকুংকুমদ্রব প্রলিপ্তদিগ্বধূমুখে ।
মদাংধসিংধুরস্ফুরত্ত্ব গুত্তরীযমেদুরে
মনো বিনোদমদ্ভুতং বিভর্তু ভূতভর্তরি ॥ 4 ॥
সহস্রলোচন প্রভৃত্যশেষ লেখশেখর
প্রসূনধূলিধোরণী বিধূসরাংঘ্রিপীঠভূঃ ।
ভুজংগরাজমালয়া নিবদ্ধজাটজূটক
শ্রিয়ৈ চিরায় জাযতাং চকোরবংধুশেখরঃ ॥ 5 ॥
ললাটচত্বরজ্বলদ্ধনংজযস্ফুলিংগভা-
-নিপীতপংচসাযকং নমন্নিলিংপনাযকম্ ।
সুধাময়ূখলেখয়া বিরাজমানশেখরং
মহাকপালিসংপদে শিরোজটালমস্তু নঃ ॥ 6 ॥
করালফালপট্টিকা ধগদ্ধগদ্ধগজ্জ্বল-
দ্ধনংজয়াধরীকৃত প্রচংডপংচসাযকে ।
ধরাধরেংদ্রনংদিনী কুচাগ্রচিত্রপত্রক-
-প্রকল্পনৈকশিল্পিনি ত্রিলোচনে মতির্মম ॥ 7 ॥
নবীনমেঘমংডলী নিরুদ্ধদুর্ধরস্ফুরত্-
কুহূনিশীথিনীতমঃ প্রবংধবংধুকংধরঃ ।
নিলিংপনির্ঝরীধরস্তনোতু কৃত্তিসিংধুরঃ
কলানিধানবংধুরঃ শ্রিয়ং জগদ্ধুরংধরঃ ॥ 8 ॥
প্রফুল্লনীলপংকজ প্রপংচকালিমপ্রভা-
-বিলংবিকংঠকংদলী রুচিপ্রবদ্ধকংধরম্ ।
স্মরচ্ছিদং পুরচ্ছিদং ভবচ্ছিদং মখচ্ছিদং
গজচ্ছিদাংধকচ্ছিদং তমংতকচ্ছিদং ভজে ॥ 9 ॥
অগর্বসর্বমংগলা কলাকদংবমংজরী
রসপ্রবাহমাধুরী বিজৃংভণামধুব্রতম্ ।
স্মরাংতকং পুরাংতকং ভবাংতকং মখাংতকং
গজাংতকাংধকাংতকং তমংতকাংতকং ভজে ॥ 10 ॥
জযত্বদভ্রবিভ্র মভ্রমদ্ভুজংগমশ্বস-
-দ্বিনির্গমত্ক্রমস্ফুরত্ক রালফালহব্যবাট্ ।
ধিমিদ্ধিমিদ্ধিমি ধ্বনন্মৃদংগতুংগমংগল
ধ্বনিক্রমপ্রবর্তিত প্রচংডতাংডবঃ শিবঃ ॥ 11 ॥
দৃষদ্বিচিত্রতল্পয়োর্ভুজংগ মৌক্তিকস্রজোর্-
-গরিষ্ঠরত্নলোষ্ঠয়োঃ সুহৃদ্বিপক্ষপক্ষয়োঃ ।
তৃষ্ণারবিংদচক্ষুষোঃ প্রজামহীমহেংদ্রয়োঃ
সমং প্রবর্তযন্মনঃ কদা সদাশিবং ভজে ॥ 12 ॥
কদা নিলিংপনির্ঝরীনিকুংজকোটরে বসন্
বিমুক্তদুর্মতিঃ সদা শিরঃস্থমংজলিং বহন্ ।
বিমুক্তলোললোচনো ললাটফাললগ্নকঃ
শিবেতি মংত্রমুচ্চরন্ সদা সুখী ভবাম্যহম্ ॥ 13 ॥
ইমং হি নিত্যমেবমুক্তমুত্তমোত্তমং স্তবং
পঠন্স্মরন্ব্রুবন্নরো বিশুদ্ধিমেতিসংততম্ ।
হরে গুরৌ সুভক্তিমাশু যাতি নান্যথা গতিং
বিমোহনং হি দেহিনাং সুশংকরস্য় চিংতনম্ ॥ 14 ॥
পূজাবসানসময়ে দশবক্ত্রগীতং যঃ
শংভুপূজনপরং পঠতি প্রদোষে ।
তস্য় স্থিরাং রথগজেংদ্রতুরংগয়ুক্তাং
লক্ষ্মীং সদৈব সুমুখিং প্রদদাতি শংভুঃ ॥ 15 ॥
========================================================================

শিব তান্ডব স্তোত্রম এর বাংলা অনুবাদ – Shiv Tandav Stotram Bangla meaning
অনুবাদ:-
(১) যিনি জটারূপ অরণ্য থেকে নির্গত গঙ্গাদেবীর প্রবাহে ঐ পবিত্র করা সর্পের বিশাল মালা কন্ঠে ধারণ করে ডম রুতে ডমডম ডম।
এই শব্দ তুলে প্রচন্ড তান্ডব নৃত্য করছেন ,, সেই শিব যেন আমার কল্যাণ করে। এবং আমি প্রনাম জানাই।
(২) যার মস্তক জটারুপ কড়াই তে বেগে ভ্রমণ কারী গঙ্গার চঞ্চল তরঙ্গ লতাসমুহে সুশোভিত হচ্ছে;যার ললাটাগ্নি ধক ধক করে জ্বলছে,,, মস্তকে অর্ধচন্দ্র বিরাজিত, সেই ভগবান শিবে যেন আমার নিরন্তর অনুরাগ থাকে।
(৩) গিরিরাজ কিশোরী পার্বতীর বিশাল কালোপযোগী উচ্চ নিচ মস্তক ভূষণ দ্বারা দশ দিক প্রকাশিত হতে দেখে যার মন আনন্দিত; যার নিত্যকৃপাদৃষ্টির ফলে কঠিন বাধা বিপত্তির দূর হয়ে যায়, সেই দিগম্বর স্বরূপ তত্ত্বে যেন আমার মন আনন্দ লাভ করে।।।।।
(৪) যার জটাজুটের মধ্যে সর্পের ফণায় অবস্থিত মণির প্রকাশিত পিঙ্গল ছটা দিশা রূপিনী অঙ্গনাদের মুখে কঙ্কুমের রংছড়ায়; মত্তহাতির বিকশিত চর্মকে উত্তরীয় চাদর রূপে ধারণ করায় যিনি স্নিগ্ধ বর্ণ লাভ করেছেন, সেই ভূত নাথে আমার চিত্ত অদ্ভূত তৃপ্তি বোধ করুক।।।।।।।
(৫) যার চরন পাদুকা ইন্দ্রাদি সকল দেবতার প্রনামের সময় মস্তকে ফুলের পরাগে ধূসরিত হয়,,নাগরাজের মালায় বাধা জটাসম্পন্ন সেই ভগবান চন্দ্রশেখর আমার জন্য চিরস্থায়ী সম্পত্তির ব্যবস্থাপক হয়ে থাকুন।
(৬) যিনি তার ললাট রূপ বেদিতে প্রজ্বলিত অগ্নি স্ফুলিঙ্গের তেজে কাম দেবকে ভস্মীভূত করছিলেন, যাকে ইন্দ্রাদি দেবগণ নমস্কার করেন, চন্দ্রের কলাদ্বারা সুশোভিত মুকুট সম্পন্ন সেই মহাদেবের উন্নত বিশাল ললাটে জটিল মস্তক আমার সম্পত্তির কারণ হোক।
(৭) যিনি তার ভীষণ কপালে ধক ধক রূপে জলন্ত অগ্নিতে প্রচন্ড কাম দেবকে আহুতি দান করেছিলেন, গিরিরাজ কন্যার স্তনাগ্ৰে পত্র ভঙ্গ রচনা করার একমাত্র শিল্পী, সেই ভগবান ত্রিলোচনের উপরে আমার যেন রতি অনুরাগ থাকে।
(৮) যার কন্ঠে নবীন মেঘ মালা বেষ্টনীতে অমাস্যার অরধরাত্রে ন্যায় দুরুহ অন্ধকার সম শ্যামলতা বিরাজ করে, যিনি গজচর্ম পরিহিত, সেই জগতভার বহন কারী, চন্দ্রের অদ্ধাকৃতিতে মনোহর ভগবান গঙ্গাধর যেন আমার সম্পতির বিস্তার করেন।
(৯) যার কন্ঠদেশ প্রস্ফুটিত নীল কমল সমুহের শ্যামশোভার অনুকরন কারী হরিনীর ছবির ন্যায় চিহ্নে সুশোভিত এবং যিনি কামদেব ত্রিপুর,ভব দক্ষ, যজ্ঞ হাতি অন্ধকাসুর এবং যমরাজের ও উচ্ছেদ কারী আমি তার ভজনা করি।
(১০) যিনি নিরভিমান পার্বতীর কলারূপ কদম্বমঞ্জরী মকরন্দস্রোতের বৃদ্ধি প্রাপ্তমাধুরী পান কারী মধূপ এবং কামদেব,ত্রিপুর,ভব; আমি তার ভজনা করি।
(১১) যার মস্তকে উপর অতন্ত্য বেগে ঘূর্ণিমান ভূজঙ্গের নিঃশ্বাসের ভয়ঙ্কর অগ্নি ক্রমা গত প্রজ্জ্বলিত হচ্ছে, ধিমি ধিমি শব্দের মৃদঙ্গের গম্ভীর মঙ্গলধ্বনি সঙ্গে যিনি প্রচন্ড তান্ডব নৃত্যকরেছেন এই ঈশ্বর কে আমি প্রনাম করি।।
(১২) পাথর এবং সুন্দরকোমল বিছানায়, সর্প ও মুক্তা মালা,বহু মূল্য রত্ম এবং মৃত্তিকা,মিত্র ও শত্রু পক্ষে,তৃন ও কমল নয়না তরুণীতে, সাধারণ প্রজা ও পৃথিবীর মহারাজ প্রতি যিনি সম ভাব রাখেন, সেই সদা শিব কে আমি যেন প্রতিদিন ভজনা করতে পারি।
(১৩) সুন্দর ললাট সম্পন্ন ভগবান চন্দ্রশেখর চিত্ত সমর্পন করে নিজ কুচিন্তা পরিত্যাগ করে, গঙ্গার তীরে কোন কাননের অভ্যন্তরে থেকে মস্তকে ওপর হাত জোড় করে বিহ্বল নয়নে শিব মন্ত্র উচ্চারণ করে আমি সুখ লাভ করি।
(১৪) যে ব্যাক্তি এইভাবে উক্ত অতি উত্তম স্তোত্র নিত্য পাঠ, স্মরণ এবং বর্ননা করে,সে সদা শুদ্ধ থাকে এবং অতি শীঘ্রই সুর গুরু শ্রীশঙ্করের প্রতি প্রকৃত ভক্তি ভাব প্রাপ্ত হয়। সেকখন ও বিপথে যায় না।
কারন শিবের সুচিন্তা প্রানিবরগের মোহ নাশ করে।
(১৫) সায়ং কালে পূজা সমাপ্ত হলে দশানন রাবণ দ্বারা গীত এই শম্ভু পূজন সম্পর্কিত স্তোত্র যিনি পাঠ করেন, ভগবান শঙ্কর সেই ব্যাক্তিকে সূখ সম্পত্তি মহাদেব প্রদান করেন।
OM NAMAH SHIVAY
HAR HAR MAHADEV
JOY SHIV SHAMBHU
Discover more from Anup Debnath Rinku
Subscribe to get the latest posts sent to your email.