Posted in

ধ্যানে নীল আলোর রহস্য

ধ্যানে নীল আলোর রহস্য, third eye activation
ধ্যানে নীল আলোর রহস্য, third eye activation

ধ্যানের গভীর স্তরে নীল আলোর রহস্য

মেডিটেশনের ক্ষেত্রে ধ্যান, সাধনা বা একাগ্র চিত্তে বসার বিষয়টাই আমাদের সবার মস্তিষ্কে প্রথমে আসে। আবার মেডিটেশনের সাথে স্পিরিচুয়ালিটির একটা সংযোগ আছে। ইজিলি যদি বলি তাহলে আপনার গন্তব্য হচ্ছে স্পিরিচুয়ালিটি আর সেখানে পৌছাবার মাধ্যম হল মেডিটেশন। এদের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর এবং অবিচ্ছেদ্য।

এই যে আধ্যাত্মিকতা বা স্পিরিচুয়ালিটি এটি কোনো অলৌকিক জাদু নয়, বরং এর মাধ্যমে আপনি আমি বা যে কেউ এর সাথে যুক্ত থাকবে সে তার নিজেকে চিনবে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় যারা নিয়মিত এই মেডিটেশন বা ধ্যান করে থাকেন তারা এমন একটা পর্যায়ে পৌছান যেখানে তারা প্রায়ই একটি অন্যরকম অভিজ্ঞতার সম্মুখীণ হয়ে থাকেন।

তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে কি সেই অদ্ভুত অভিজ্ঞতা?? বলছি –

নিয়মিত মেডিটেশন করে থাকেন এমন কয়েকজন মানুষের সাথে কথা বলে জানতে পেরেছি যে তারা ধ্যানের এক পর্যায়ে বন্ধ চোখের সামনে উজ্জ্বল নীল আলো দেখতে পান।। এটা যে সবার ক্ষেত্রে হয় এমনও না। তাহলে কারা এটি দেখতে পায়? নিশ্চই এই প্রশ্নটা আসছে মনে।

আজকের এই বিস্তারিত নিবন্ধে আমি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং প্রাচীন আধ্যাত্মিক শাস্ত্রের আলোকে এই নীল আলোর গভীর রহস্য ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করবো।।

তার আগে বলে রাখি আমার ব্লগ ভালো লেগে থাকলে আর আমার সাথে এই স্পিরিচুয়াল জগতের অভিজ্ঞতা নিতে আমার ব্লগটি সাবস্ক্রাইব করে রাখবেন।

ধ্যানের গভীরতা এবং আলোর আবির্ভাব 
third eye activation

১. ধ্যানের গভীরতা এবং আলোর আবির্ভাব

প্রাথমিকভাবে আমরা যখন ধ্যান শুরু করি, আমাদের মন থাকে অশান্ত, মাথায় আমাদের অনেক চিন্তা আসে, ঘুরপাক খায়। এটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে আপনাকে আগে আপনার শ্বাসের উপরে নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে। যখনই আপনি এটি করতে পারবেন তখন দেখবেন আপনার মন ধীরে ধীরে শান্ত হচ্ছে , আর ঠিক তখনই আমাদের মস্তিষ্ক তরংগ ইউজ করে থাকে। মস্তিষ্ক প্রথমে বিটা তরঙ্গ থেকে আলফা তরঙ্গ এর ভেতরে যায়, তারপর সেখান থেকে যায় থিটাতে। আর এই স্তরে এসেই আমাদের থার্ড আই বা তৃতীয় নয়ন সক্রিয় হতে শুরু করে।

আমি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় দেখেছি, যখন শরীরের প্রতিটি পেশি শিথিল হয়ে আসে এবং বাইরের জগতের কোলাহল মন থেকে মুছে যায়, তখনই বন্ধ চোখের অন্ধকার পর্দা ভেদ করে নীল রঙের একটি আভা ভেসে ওঠে। এটি কোনো সাধারণ আলোর মতো নয়; এটি অত্যন্ত শীতল, প্রশান্ত এবং গভীর, তীব্র।।

আলাপচারিতায় প্রশ্ন উঠলো মেডিটেশন তো সবাই করে থাকে তাহলে এই নীলাভ আভা সবাই কেনো দেখতে পায় না। এই নীল আভা বা নীলাভ আলোর রহস্যকে পেতে গেলে কিছু জিনিস মানতে হয় যেটা একটু কঠিনই। তথাকথিত ৫-১০ মিনিট সাধারণ মেডিটেশন করে এই রহস্য ভেদ করা সম্ভব না। এর জন্য প্রয়োজন একাগ্র চিত্ত, আজ্ঞা চক্রের সক্রিয়তা, ধ্যানের গভীরতা, ব্যক্তির মানসিক অবস্থা, আধ্যাত্মিক প্রস্তুতি। আর তার চাইতেও বড় কথা হচ্ছে মনকে ‘আলফা’ বা ‘থিটা’ স্টেটে নিয়ে যেতে হয়, যেখানে শরীর মৃতপ্রায় শান্ত থাকে কিন্তু চেতনা অত্যন্ত জাগ্রত থাকে।

আলফা বা থিটা স্টেট কি?

এটা আমাদের মস্তিষ্কের ইলেকট্রিক্যাল তরঙ্গ বা ফ্রিকোয়েন্সির ভিন্ন ভিন্ন অবস্থা । এখানে পৌছালে জাস্ট আপনার চিন্তা জাগ্রত থাকবে কিন্তু শরীড় থাকবে শান্ত শবদেহের মত।

বিটা স্টেট – সাধারণ কাজ এর সময়। স্বাভাবিক কাজ করা, কথা বলা, চিন্তা করা। ফ্রিকোয়েন্সি ১৩-৩০ Hz থাকে এখানে।

আলফা স্টেট – ঘুমের সময়, বিশ্রামের সময়। মস্তিষ্ক তখন ৮ থেকে ১২ হার্টজ (Hz) ফ্রিকোয়েন্সিতে থাকে। এটি ধ্যানের শুরুর পর্যায়ের অবস্থা। এখানে ধ্যানের শুরুর মাধ্যমে ব্যক্তি নিজকে বাইরের জগত থেকে বিচ্ছিন্ন করে।

থিটা স্টেট – আধ্যাত্মিক জগতের গভীরতা। ফ্রিকোয়েন্সি হলো ৪ থেকে ৮ হার্টজ (Hz)। সাবকনশাস মাইন্ড কাজ করা শুরু করে এখানে। ব্যক্তি এখানে বা এই ফ্রিকোয়েন্সিতে যখন যুক্ত থাকে তখন অন্তর্দৃষ্টি (Intuition) এবং আধ্যাত্মিক দর্শনের অভিজ্ঞতা পায়, ক্ষেত্রবিশেষে তার আধ্যাত্মিক অনুভূতি তীব্র থেকে তীব্র হয়ে থাকে। যখন ব্যক্তি এই থিটা স্টেটের গভীর আসে তখন নীলাভ আভা বা নীল আলো বা আধ্যাত্মিক কোনো বিশেষ দৃশ্য দেখে থাকে।

নাম / স্টেটফ্রিকোয়েন্সিঅবস্থা
বিটা১৩-৩০ Hস্বাভাবিক কাজ করা, কথা বলা, চিন্তা করা।
আলফা ৮ থেকে ১২ (Hz)চোখ বন্ধ করে বিশ্রাম, হালকা ধ্যান, রিল্যাক্সেশন।
থিটা৪ থেকে ৮ (Hz)গভীর ধ্যান, নীল আলো দেখা, অবচেতন মনের জাগরণ।

২. আধ্যাত্মিক বিজ্ঞানে নীল আলোর তাৎপর্য

প্রাচীন যোগশাস্ত্র এবং চক্র বিজ্ঞানে রঙের একটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ধ্যানে নীল আলো দেখার পেছনে মূলত দুটি প্রধান কারণ থাকে:

ক. বিশুদ্ধি চক্র (Throat Chakra)

আমাদের কণ্ঠনালির মূলে অবস্থিত ‘বিশুদ্ধি চক্র’-এর রঙ হলো আকাশী বা হালকা নীল। এই চক্রটি মূলত সত্য প্রকাশ, সৃজনশীলতা এবং আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। আপনি যদি ধ্যানে নীল আলো দেখেন, তার মানে আপনার এই চক্রটি সক্রিয় হচ্ছে। এটি নির্দেশ করে যে আপনার ভেতরে জমে থাকা কথা বা আবেগগুলো এখন মুক্তি পাচ্ছে এবং আপনার যোগাযোগ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হচ্ছে।

খ. আজ্ঞা চক্র ও উচ্চতর চেতনা (Third Eye Chakra)

গভীর নীল বা ইন্ডিগো (Indigo) রঙ হলো আজ্ঞা চক্রের প্রতীক। এটি দুই ভ্রুর মাঝখানে অবস্থিত। ব্যাক্তির ধ্যানের গভীরতা যখন প্রবল বা চরমে পৌছায় তখনই এই চক্র জাগ্রত হয়ে থাকে। যার ফলে ব্যক্তি নীল আলো বা নীলাভ আভা দেখতে পারেন। আর এই আলো দেখার মানে হচ্ছে আপনি তখন আপনার চেতনার সাধারণ স্তর ছেড়ে ইউনিভার্সের চেতনার সাথে যুক্ত হচ্ছেন। এটি আধ্যাত্মিক জাগরণের একটি শক্তিশালী লক্ষণ।

৩. আমার ব্যক্তিগত আধ্যাত্মিক যাত্রা ও উপলব্ধি

একজন উদ্যোক্তা হিসেবে আমার জীবন সবসময়ই ব্যস্ততায় কাটে। (ODC)-এর কাজ সামলানোর পাশাপাশি যখন আমি ধ্যানে বসি, তখন এই নীল আলো আমাকে এক অদ্ভুত ভারসাম্য দেয়।

আমি যখন প্রথম এই আলো দেখেছিলাম তখন শুরুতে একটু অবাক হয়েছিলাম। চারদিকে অন্ধকার কিন্তু কিরকম যেনো একটি ঐশ্বরিক নীলাভ আলো আছড়ে পড়ছে আমার সামনে। এটী স্থির ছিলো না, আমার দিকে এগিয়ে আসছে, আর যত এগিয়ে আসছে তত প্রকট আকার ধারণ করছে, ততই তার বিশালতা বেড়ে যাচ্ছে।। আমাকে পুরো গ্রাস করে ফেলে এই নীলাভ আলো। আমার অবচেতন মন তখন শূণ্যে ভাসছে আর পাচ্ছে অদ্ভুত এক প্রশান্তি। জাস্ট এমাজিং থিং। এর মাধ্যমে আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে আমাদের চিন্তার বাইরেও এক জগত আছে যেটা কেবল গভীর অনুভবের মাধ্যমে পাওয়া যায়।

৪. কেন সবাই এই আলো দেখতে পায় না?

অনেকেই অভিযোগ করেন যে তারা দীর্ঘক্ষণ ধ্যানে বসেও কোনো আলো দেখতে পান না। এর পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে:

  • অস্থির মন: আপনার মন যদি অস্থির থাকে যেটা আমি আগেও উল্লেখ করেছিলাম তাহলে সম্ভব না। মনকে শান্ত করতে হবে।
  • ফলাফলের আশা: নীলাভ আলো বা ধ্যানের মাধ্যমে এই মহাজাগতিক নীল আলোর রহস্যে ভেদ করার জন্যই যদি জেদ নিয়ে বসেন তাহলে আপনার কাজ হচ্ছে না। এখানে আপনার ইগো বা অহং বোধ কাজ করবে।
  • চর্চার অভাব: এটি একটি চর্চার প্রক্রিয়া, নিয়মিত চর্চা ব্যতীত এই গভীরতা অনুভব করা সম্ভব না।

৫. এই অভিজ্ঞতা থেকে আপনার লাভ কী?

এর মাধ্যমে যে আপনি পার্থিব সহায় সম্পদ পাবেন এমন কোনো কিছু না কিন্তু। এই নীল আলো আপনার ধ্যানের কেবল একটা ভিজ্যুয়াল এক্সপেরিয়েন্স নয়, বাস্তবেও এর প্রভাব পড়ে। এর মাধ্যমে আসবে আপনার মানসিক স্থিরতা, আপনার রাগ বা উত্তেজনা অনেকটাই প্রশমিত হবে। এছাড়াও নীল আলো হচ্ছে সৃজনশীলতার প্রতীক। আপনার কাজে কর্মে বা জীবনে সৃজনশীলতা বাড়বে। মজার ব্যাপার হচ্ছে যারা নিয়মিত এই আলোর দেখা পায় তাদের অনিদ্রাজনিত সমস্যা দূর হয়।

৬. যারা এই আলো দেখতে চান তাদের জন্য গাইডলাইন

আপনি যদি আপনার ধ্যানের গভীরে এই নীল আলোর রহস্য অনুভব করতে চান, তবে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে পারেন:

  • সঠিক পরিবেশ: একটি শান্ত এবং অন্ধকার ঘর বেছে নিন।
  • আসন: মেরুদণ্ড সোজা করে আরামদায়ক আসনে বসুন।
  • ত্রাটক ধ্যান: আপনি চাইলে শুরুতে একটি মোমবাতির শিখার দিকে তাকিয়ে ‘ত্রাটক’ অনুশীলন করতে পারেন, যা আপনার একাগ্রতা বাড়াবে।
  • সমর্পণ: সবশেষে নিজেকে পরমাত্মার কাছে সমর্পণ করুন। কোনো কিছু পাওয়ার আশা না করে কেবল বসে থাকুন।

শেষ কথা: আধ্যাত্মিকতার পথে এগিয়ে চলা

ধ্যানের গভীরে নীল আলোর দেখা পাওয়া একটি অত্যন্ত শুভ লক্ষণ। এটি আপনাকে মনে করিয়ে দেয় যে আপনি সঠিক পথে আছেন। তবে মনে রাখবেন, আলো দেখাটাই ধ্যানের শেষ লক্ষ্য নয়; লক্ষ্য হলো নিজের মনকে জয় করা এবং শান্তি লাভ করা।

আমার এই anupdebnath.com ওয়েবসাইটে আমি নিয়মিত আমার এই ধরনের আধ্যাত্মিক উপলব্ধি এবং অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করব। আপনি যদি আপনার জীবনেও এমন কোনো অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন, তবে নিচে কমেন্ট করে আমাকে আপনার অভিজ্ঞতার কথা জানাতে পারেন। আধ্যাত্মিক যাত্রা সফল হোক।


Discover more from Anup Debnath Rinku

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply

Discover more from Anup Debnath Rinku

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading

Owner of OM DISTRIBUTION CENTER