অন পেজ এসইও কি? কিভাবে করবেন?

Views: 258
0 0
Read Time:29 Minute, 7 Second

অন পেজ এসইও কি? কিভাবে অন পেজ এসইও করবেন?

বন্ধুরা, আমাদের আগের আর্টিকেলে আলচনা করেছিলাম এসইও এর প্রকারভেদ নিয়ে। সেখানে এসইও এর বিভিন্ন ধরণ সম্পর্কে বলা হয়েছে। যারা মিস করেছেন তারা চাইলে পড়ে আসতে পারেন এই ( SEO কি? এসইও এর প্রকারভেদ গুলো কি কি?  ) লিংক থেকে। তো আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় হচ্ছে অন পেজ এসইও। মূলত এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আমি অন পেজ এসইও কি? কিভাবে অন পেজ এসইও করবেন এই বিষয়গুলোই তুলে ধরবো। তো চলুন কথা না বাড়িয়ে শুরু করা যাক।

অন পেজ এসইও কি? ( What is On Page SEO? )

এসইও এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে অন পেজ এসইও। এখানে মূলত একটি ওয়েবসাইটের যে সকল পেজ থাকে সেগুলোর এসইও করা হয় যাতে সার্চ রেজাল্টে ঐ ওয়েবসাইটটি ভালো পজিশনে আসতে পারে। এখানে একটি জিনিস খেয়াল রাখতে হবে – আপনার কন্টেন্ট কোয়ালিটি ভালো হতেই পারে কিন্তু ঐ কন্টেন্ট যে পেজে থাকবে সেটার যদি এসইও না করেন তাহলে যা লাউ তাই কদু থাকবে। কাজেই কন্টেন্টের পাশাপাশি পেজের এসইও করাটাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এজন্যই অন পেজ এসইও করার মাধ্যমে ওয়েবসাইট বা ব্লগের কন্টেন্টগুলোকে, পেজগুলোকে সার্চ ইঞ্জিনের জন্য অপ্টিমাইজ করা হয়ে থাকে। যার ফলে সার্চ রেজাল্টে ভালো পজিশনে আসা যায় সেই সাথে পাওয়া যায় প্রচুর পরিমাণে ট্রাফিক।

তো বন্ধুরা চলুন এবার দেখে নেয়া যাক অন পেজ এসইও কি কি বিষয়ের উপর আলোকপাত করে থাকে-

১. পেজ কন্টেন্ট

২. পেজ টাইটেল

৩. মেটা ট্যাগ

৪. ইমেজস

৫. লিংক্স

৬. পেজ হেডিংস বা সাব হেডিংস

৭. ইউআরএল

অন পেজ এসইও কেনো গুরুত্বপূর্ণ?

আপনার ওয়েবসাইটের কনটেক্সট কি, আপনার পেজগুলো কিসের নির্দেশ করছে সেটা গুগলকে কিভাবে বুঝাবেন? সেটা বুঝাতে গেলে আপনার দরকার পড়বে অন পেজ এসইও । যারা এসইও এর এই টার্মটি ভালো করে বুঝবে তারাই সার্চ রেজাল্টে এদিয়ে থাকবে, তাদের ওয়েবসাইটের র‍্যাংকিংও এগিয়ে থাকবে, গুগল থেকে তারা প্রচুর পরিমাণে অর্গানিক ট্রাফিকও পাবে। এছাড়াও কিছু কিছু ক্ষেত্রে অন পেজ এসইও এর উপাদানগুলো সরাসরি এসইও এর র‍্যাংকিং ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে থাকে। ভাবছেন কিভাবে?

এই যেমন ধরুন – পেজের টাইটেলে এসইও কিওয়ার্ড ব্যবহার করা, আর্টিকেলে রিলেটেড কিওয়ার্ড ব্যবহার করা ইত্যাদি।

অন পেজ? অফ পেজ? নাকি টেকনিক্য্যাল এসইও?

এই যে তিনটী টার্মসের কথা এখানে উল্লেখ করা আছে এগুলোর মধ্যে আপনি কোনটি বেছে নিবেন? এসইও এর এই তিনটি টার্মস এর মধ্যে পার্থক্য কি? সে বিষয়ে আলোকপাত না হয় অন্য আর্টিকেলে করা যাবে। তার আগে চলুন কিছু লক্ষ্যণিয় বিষয় দেখে নেই।

টেকনিক্যাল এসইও এর কমন কিছু বিষয়ঃ

  • পেজ স্পিড
  • রিডাইরেক্ট
  • এক্সএমএল সাইটম্যাপ
  • সাইট স্ট্রাকচার
  • ইনডেক্সিং
  • মোবাইল ফ্রেন্ডলিনেস
  • এইচআরইএফ ল্যাংগুয়েজ
  • এসএসএল সার্টিফিকেট

অফ পেজ এসইও এর কমন কিছু বিষয়ঃ

  • লিংক বিল্ডিং
  • সোশ্যাল ডিস্ট্রিবিউশন
  • ব্রান্ড মেট্রিক্স
  • গেস্ট ব্লগিং
  • কাস্টমার রিভিউ
  • ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং
অন পেজ  এসইও কি

অন পেজ এসইও কেন করবেন?

হ্যাঁ এই প্রশ্নটা নিশ্চই আপয়ান্র মনে ঘুরপাক খাচ্ছে যে কেনো অন পেজ এসইও করবেন। রাইট? তবে এর উত্তর কিন্তু আমি আগেই দিয়ে দিয়েছি। কাজেই এখানে আবার সেইম কথা রিপিট করে টপিকটাকে দীর্ঘায়িত করছি না। তবে এখানে অন পেজ এসইও কি কি বিষয়ের উপর ভিত্তি করে কাজ করে থাকে সেগুলোই আলোচনা করবো। তাহলে চলুন দেখে নেয়া যাক এই বিষয়গুলো –

১. কন্টেন্ট অপ্টিমাইজ করাঃ

আপনার ওয়েবসাইট যে নিশের উপরই তৈরী হোক না কেনো ইউজারদের স্যাটিসফাইড করতে হলে আপনাকে কোয়ালিটি কন্টেন্ট দিতে হবে, অর্থাৎ আপনার আর্টিকেলটি এমন হতে হবে যাতে ঐ নির্দিষ্ট টপিক যেনো পুরোটাই কভার হয়। আর আপনি যদি ভেবে থাকেন যেনো তেনোভাবে একটি আর্টিকেল লিখে দিলেই হয়ে যাবে তাহলে আপনি বোকার রাজ্যে বাস করছেন।  হাই কোয়ালিটি আর্টিকেল অবশ্যই প্রয়োজন।  এখন কথা হচ্ছে কন্টেন্ট অপ্টিমাইজ করতে হলে আপনাকে কোন কোন বিষয়ের উপর ফোকাস করতে হবে? হ্যাঁ বন্ধুরা চলুন এই প্রশ্নের উত্তরটা জেনে নেয়া যাক –

  • কিওয়ার্ড রিলিভেন্সঃ

আপনার কটেন্ট কি আপনার ফোকাস কিওয়ার্ড কে ইন্ডীকেট করছে সেটা দেখতে হবে। কারণ গুগল সেই সব পেজকে প্রাধান্যতা দিয়ে থাকে যেগুলো সার্চ কোয়েরিতে সবচেয়ে বেশি রিলিভেন্ট হয়ে থাকে। কন্টেন্ট অপ্টীমাইজ করার সময় একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে আপনাকে যে পেজের অপ্টিমাইজেশন করবেন সেটি যেনো একটি নির্দিষ্ট কিওয়ার্ডকে টার্গেট করে করা হয়।

সেই সাথে এটাও নিশ্চিত করতে হবে যে একাধিক কিওয়ার্ড দিয়ে যেনো পেজটি সেট আপ করা না হয়। প্রায় একই রকম কিওয়ারড যদি একাধিক পেহজে থাকে তাহলে গুগল কোন পেজের জন্য কোন কিওয়ার্ড রিলিভেন্ট সেটা বের করতে একতু সমস্যায় পড়ে। ব্যাপারটা অনেকটাই ক্রিটিকাল হয়ে যায় গুগলের জন্য।

  • সার্চ ইনটেন্টঃ

এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হয় – ইউজাররা যে বিষয় নিয়ে সার্চ করছে সেই উদ্দ্যেশ্য ঐ পেজটি সম্পাদন করতে পারছে কি না। আর বর্তমান সময়ে সার্চ ইঞ্জিনগুলো আপনার আমার চিন্তার চাইতেও অনেক অনেক স্মার্ট। ভাবছেন কিভাবে?

হ্যাঁ বলছি তাহলে – মেশিন লার্নিং, আরটিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ( এআই ), ন্যাচারাল ল্যাংগুয়েজ প্রসেসিং এর মতো বিষয়গুলো দিনে দিনে উন্নতি করছে যার ফলে সার্চ ইঞ্জিনও এগুলো ব্যবহার করে আরো স্মার্ট হয়ে উঠছে আগের চেয়ে আরো বেশি।  আর এগুলো ব্যবহার করেই গুগলে বুঝতে পারে যে একজন ইউজার যে সার্চ কোয়েরি দিয়ে সার্চ করেছে সেটার রেজাল্ট কি কি দেখাতে হবে।         

এখন আসি আরেকটি পয়েন্টে ।

প্রথমত যারা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সার্চ করছেন তারা একচুয়ালি কণ জিনিসটি গুগলের কাছে চাচ্ছেন?

দ্বিতীয়ত ঠিক কোন ধরণের কন্টেন্টে ইউজাররা মুভ করছেন? এটি কে কেস স্টাডি, কোনো চার্ট, কোনো লিস্ট, নাকি কোনো রিভিউ?

তৃতীয়ত, এই সার্চের কন্টেক্সট কি? এটি কি আপডেটেড হতে হবে? নাকি এভারগ্রিন? নাকি বিগিনার? নাকি এডভান্সড লেভেলের হতে হবে?

যখন আপনি কন্টেন্ট অপ্টিমাইজ করবেন তখন এই তিনটি বিষয় মাথায় রেখে কাজ করবেন।

  •  কন্টেন্ট এর দৈর্ঘ্যঃ

আপনার কন্টেন্ট কতটুকু দীর্ঘ সেটাও একটা ফ্যাক্ট। এক্ষেত্রে তেমন কোন ধরাবাধা নিয়ম নেই। সাধরণত দেখা যায় যে সার্চ রেজাল্টের প্রথমে থাকা পেজগুলো ২০০০-২৫০০+ শব্দের আর্টিকেল প্রকাশ করে থাকে। আর এই টাইপের দীর্ঘ আর্টিকেলগুলোই কিন্তু সারচ রেজাল্টে আই পজিশনে থাকে।  তবে এক্ষেত্রে আগে আপনাকে দেখতে হবে আপনার কন্টেন্টের আপনি নির্ধারিত টপিকটি পুরো কভার করছেন কি না, এখানে পর্যাপ্ত পরিমাণে তথ্য আছে কি না।

শুধু কি তাই? বড় আর্টিকেলে ব্যাকলিংকও পাওয়া যায় বেশি। সাইটের যদি অথোরিটি বাড়াতে চান তাহলে ডুফলো ব্যাকলিংক আপনার অবশ্যই প্রয়োজন হবে। আপনার এই তথ্যবহুল কন্টেন্ট যদি ইউজারদের সন্তোষ্টি অর্জন করতে পারে তাহলে সেটি শেয়ারও হবে দ্রুত।  তাহলে কি হবে? যত বেশি শেয়ার হবে তত  বেশি মানুষের নজরে পড়বে এই আর্টিকেল। ফলে বিভিন্ন জায়গায় আপনার দেয়া আর্টিকেল মানুষ মেনশন করে দেবে।

কাজেই শুধু বড় আর্টিকেল লিখলেই হবে না, সেটাকে তথ্যবহুলও হতে হবে। আরেকটি জিনিস আপনি করতে পারেন কন্টেন্ট শুরু করার সময়। যে কন্টেন্ট লিখবেন সেটার একদম গভীরে গিয়ে চিন্তা করবেন যে ইউজাররা এই কন্টেন্ট থেকে কি কি জিনিস জানতে চায়, তাদের কি কি প্রশ্ন থাকতে পারে এই কণ্টেন্টকে ঘিরে। ব্যাস, ডিপল চিন্তা করে কন্টেন্ট তৈরী করলে এমনিতেই কন্টেন্ট এর দৈর্ঘ্য বাড়বে। কারণ বিষয়টিকে দুর্দান্তভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য আপনি অনেক রিসোর্সও আপনার কন্টেন্টের মাধ্যমে শেয়ার করুবেন।

২. টাইটেল ট্যাগ বা হেডিং ট্যাগ অপ্টিমাইজ করাঃ

সাধারণত ৬ ধরণের হেডিং ট্যাগ হয়ে থাকে। H1 থেকে শুরু করে H6 পর্যন্ত। আর টাইটেল ট্যাগের মাধ্যমে মূলত একটি পেজের টাইটেল ট্যাগ কি সেটা নির্ধারণ করা হয়। সার্প রেজাল্টেও টাইটেল ট্যাগ গুরুত্বপূর্ণ । স্বাভাবিকভাবেই আপনার মনে প্রশ্নম আসতে পারে যে অন-পেজ এসইও করার সময় টাইটেল ট্যাগ যখন অপ্টিমাইজ করবো তখন কি কি বিষয় খেয়াল রাখবো? হ্যাঁ বলছি-

  • আপনার আর্টিকেল বা পেজের যেটি মেইন কিওয়ার্ড থাকবে সেটিকে আপনার টাইটেল ট্যাগে লিখুন। কারণ র‍্যাঙ্গকিং ফ্যাক্টরের জন্য গুগল এই বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিয়ে থাকে।
    • চেষ্টা করুন শুরুর দিকে যেনো আপনার মেইন বা ফোকাস কিওয়ার্ডকে যেনো রাখতে পারেন সেটির।
    • টাইটেল ট্যাগকে অতিরিক্ত কিওয়ার্ড দিয়ে বিষিয়ে তুলবেন না। এমনভাবে অপ্টিমাইজ করুন যাতে সহজেই পড়তে পারা যায়।
    • আপনার ব্রান্ড এর নামও চাইলে আপনি টাইটেল ট্যাগে ব্যবহার করতে পারবেন।
    • আপনার টাইটেল ট্যাগটি ৭০টি অক্ষরের ভেতরে রাখার চেষ্টা করুন।
    • আপনার পেজকে সবসময় ইউনিক রাখার চেষ্টা করুন। ভুলবশত যাতে ডুপ্লিকেট হয়ে না যায় সে ব্যাপারে খেয়াল রাখবেন।

৩. মেটা ট্যাগ অপ্টিমাইজ করাঃ

এবার চলে আসলাম অন-পেজ এসইও এর আরেকটি ধাপে। এখানে আপনাকে আপনার পেজের মেটা ট্যাগ অপ্টিমাইজ করতে হবে। এখন স্বাভাবিকভাবেই আপনি প্রশ্ন করতে পারেন যে মেটা ট্যাগ আমি কোথায় পাবো? হ্যাঁ বলছি – মেটা ট্যাগ সাধারণত হেডীং এর ভেতরে থাকে। আপনার পেজের যে হেডিং আছে সেখানেই আপনি মেটা ট্যাগ দিবেন। যেহেতু আপনি অন-পেজ অপ্টিমাইজেশন করবেন সেহেতু আপনাকে ৩টি বিষয়ের উপর খেয়াল রাখতে হবে । আর সেগুলো হচ্ছে –

  • মেটা ডেসক্রিপশন
  • রোবোটস টেক্সট
  • মেটা কিওয়ার্ডস

মেটা ডেসক্রিপশনঃ

মেটা ডেসক্রিপশন কি? সংক্ষেপে যদি বলি এটি হচ্ছে আপনার পেজে যা আছে তার একটি শর্ট সামারি। আর এই শর্ট সামারিই গুগলের সার্প ( SERP  )  রেজাল্টে দেখানো হয়।  চলুন দেখে নিই নিচের ছবিটি –

ডেসক্রিপশন লিখার সময় আপনাকে বেশ কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। কি কি সেই বিষয়গুলো সেগুলো নিচে তুলে ধরলাম-

  • ডেসক্রিপশন যেনো রিডার ফ্রেন্ডলি হয়।
  • ডেসক্রিপশন এর সাথে যেনো তারিখ, নাম এগুলো আসে সেটা খেয়াল রাখতে হবে
  • ডেসক্রিপশনকে এট্রাকটিভ করে তোলার চেষ্টা করুন। একজন রিডার সাধরণত কি চাচ্ছেন সেটাকেই ফুটিয়ে তোলার ব্যবস্থা করুন আপনার ডেসক্রিপশনে।
  • মেটা ডেসক্রিপশন লিখবেন তবে সেটা এতো বিশদ আকারে নয়। ১৫০ কারেক্টারের ভেতরে হলে ভালো হয়।

মেটা রোবটসঃ

আগেই বলেছি প্রত্যেকটি সার্চ ইঞ্জিনের ক্রলার থাকে।  আর মেটা রোবটস (robots tag) সার্চ ইঞ্জিনের ক্রলারকে নির্দেশনা দিয়ে থাকে যে আপনার পেজে কি কি হতে পারে বা ক্রলার আপনার পেজে কি কি করবে। আপনার পেজকে ইনডেক্স করা হবে কি না, আপনার পেজ ক্রল করা হবে কি না সেগুলোও মেটা রোবটস ইংগিত করে থাকে। তবে এই ট্যাগ ব্যবহার করার ক্ষেত্রে একটি বিষয় খেয়াল রাখবেন। এখানে ট্যাগ ব্যবহার করার সময় Follow / No Follow এবং index/ no index এর ব্যাপারটা ।।

Follow / No Follow এবং  index/ no index এর কাজ কি সেটাও তো আপনাকে জানতে হবে নাকি? না জানলে তো অজানাই থেকে যাবে হা হা ।

  • Index = এটি সার্চ ইঞ্জিনকে আপনার পেজকে সার্চ রেজল্টে ইনডেক্স করার জন্য নির্দেশ দিয়ে থাকে । সাধারণত এটি ডিফল্ট অবস্থায়ই থাকে।
  • No index = এটি সার্চ ইঞ্জিনকে আপনার পেজকে সার্চ রেজল্টে ইনডেক্স না করার জন্য নির্দেশ দিয়ে থাকে। আপনি যদি চান আপনার কোনো পেজ সার্চ রেজাল্টে না আসুক তাহলে আপনি এই ট্যাগ মেটা রোবটসে ব্যবহার করতে পারবেন ।
  • Follow = এটি সার্চ ইঞ্জিনকে নির্দেশ দেয় আপনার পেজে থাকা লিংকগুলোকে অনুসরণ করার জন্য। এছাড়াও আপনার পেজে থাকা ইন্টার্নাল লিংকগুলো অন্য কোন পেজকে নির্দেশ করছে সেগুলোকেও অনুসরণ করার জন্য নির্দেশ দিয়ে থাকে।
  • No Follow = এই ট্যাগ সার্চ ইঞ্জিনের ক্রলারকে আপনার পেজের লিংকগুলোকে অনুসরণ না করার জয়ন নির্দেশ দিয়ে থাকে।

মেটা রোবটস ট্যাগ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু জিনিস খেয়াল রাখবেনঃ  

  • যদিও মেটা রোবটস ট্যাগে ডিফল্ট হিসেবে Index আর Follow এই দুটি ট্যাগ দেয়া থাকে তারপরও বার এটি চেক করে নিবেন। একান্তই যদি কোন পেজ গুগলে ইনডেক্স করাতে না চান সেক্ষেত্রে ঐ পেজকে No index আর No Follow  ট্যাগ ব্যবহার করবেন।
  • মেটা রোবটস ট্যাগটি মূলত একটি এইচটিএমএল ইলিমেন্ট।  আপনার সার্চ ইঞ্জিনকে ক্রলিং অথবা ইনডেক্সিং থেকে বিরত রাখতে চাইলে আপনি মেটা রোবটস ট্যাগ ব্যবহার করতে পারেন ।
seo কি

৪. হেডিং ট্যাগ অপ্টিমাইজ করাঃ

এবার চলুন কথা বলে নেয়া যাক হেডিং ট্যাগ সম্পর্কে। আগেই বলেছি হেডিং ট্যাগ মূলত ৬ ধরণের। আর প্রথমে যে ট্যাগ আসে অথবা পেজের টাইটেলে যে ট্যাগ ব্যবহার করাহয়ে থাকে সেটাকে বলে H1 ট্যাগ। হেডিং এর ক্ষেত্রে এই ট্যাগ ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ।  হেডিং ট্যাগকে অনেকেই আবার এইচ ট্যাগসও বলা হয়ে থাকে।

এই ট্যাগগুলো আসলে কিভাবে ব্যবহার করা হয় সেটা একটু দেখে নিই চলুন –

<h1>অন-পেজ এসইও</h1>

<h2>অন-পেজ এসইও বেসিক</h2>

<h3>অন-পেজ এসইও কি?</h3>

<h3>অন-পেজ এসইও কেনো গুরুত্বপূর্ণ?</h3>

<h3>অন-পেজ এসইও vs অফ-পেজ এসইও vs টেকনিক্যাল এসইও</h3>

<h2>অন-পেজ এসইও করার ১০টি উপায়</h2>

<h3>১. কন্টেন্ট অপ্টিমাইজ করা </h3>

<h4>কিওয়ার্ড রিলিভেন্স</h4>

<h4>ইউজার ইন্টেন্ট</h4>

<h4>কন্টেন্টের দৈর্ঘ্য</h4>

<h4>কিওয়ার্ড ডেনসিটি</h4>

এগুলো তো ট্যাগ দিয়ে বুঝানো হলো । এবার চলুন দেখে নিই পেজে দেখতে কেমন হয় এই ট্যাগগুলো-

অন-পেজ এসইও

  • অন-পেজ এসইও বেসিকস
    • অন-পেজ এসইও কি?
    • অন-পেজ এসইও কেনো গুরুত্বপূর্ণ?
  • অন-পেজ এসইও vs অফ-পেজ এসইও vs টেকনিক্যাল এসইও
    • অন-পেজ এসইও করার ১০টি উপায়
    • ১. কন্টেন্ট অপ্টিমাইজ করা 
      • কিওয়ার্ড রিলিভেন্স
      • ইউজার ইন্টেন্ট
      • কন্টেন্টের দৈর্ঘ্য 
      • কিওয়ার্ড ডেনসিটি

একটি পেজে কন্টেন্টগুলোকে ভালোভাবে বুঝার জন্য গুগল পেজের হেডিংকে ব্যবহার করে থাকে। যদিও এটি র‍্যাঙ্গকিং ফ্যাক্টর নয় তবে হেডিং এর ভেতরে ফোকাস কিওয়ার্ড ব্যবহার করলে এটি র‍্যাংকিং ফ্যাক্টরে প্রভাব রাখে, পেজের রিলিভেন্স কেমন সেটাও বুঝতে পারা যায়। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে বিভিন্ন ধরণের হেডিং ট্যাগ ব্যবহার করার মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইটের ইউজাররা সহজেই বুঝতে পারবে যে কোন সেকশনে কি কি বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

পেজের হেডিং অপ্টিমাইজ করার সময় পেজের ইউজার রিডাবিলিটি কেমন সেটাও চেক করতে হবে । তারপর গুগল যাতে বুঝতে পারবে সেজন্য রিলেটেড কিওয়ার্ডস, ফোকাস কিওয়ার্ডসের ব্যবহার করতে হবে।

৫. ইউআরএল অপ্টিমাইজ করাঃ

একটি ওয়েবসাইটের ইউআরএল কেমন হয়ে থাকে? এই দেখেন এইরকম –

ইউআরএল ব্যবহার করার সময় আপনি যে ইউআরএল দিবেন সেটাকে কি বলে জানেন? সেটাকে বলে স্লাগ। আপনার সাইটের ইউজারদের জন্য আপনি ভালো একটি ইউজার এক্সপেরিয়েন্স তৈরী করতে পারবেন যদি আপনি ইউআরএল ভালোভাবে অপ্টিমাইজ করতে পারেন। আর যেটি ভিজিটরদের নিকট ভালো সেটি গুগলের নিকটও ভালো।

ইউজাররা আপনার ইউআরএল দেখেই কিন্তু বুঝে নেয় যে আপনার পেজটি মূলত কিসের উপর তৈরী। কাজেই ইউআরএল ভালোভাবে অপ্টিমাইজ করাটাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ইউআরএল অপ্টিমাইজ করার ক্ষেত্রে কিছু জিনিস খেয়াল রাখতে হবে। চলুন দেখে নিই সেগুলো কি কি –

  • স্লাগকে সংক্ষিপ্ত রাখা । ইউআরএলে ৫ থেকে ৭টি শব্দ ব্যবহার করাটা বেটার।
  • ইউআরএল এর ভেতরে কিওয়ার্ড ব্যবহার করা । র‍্যাংকিং এর জন্য কার্যকরী ।
  • ইউআরএলকে ইউজার ফ্রেন্ডলি করে তোলা । ইউআরএলকে সবসময় ইউনিক রাখবেন ।
  • স্টপ ওয়ার্ডস ( or/the/and ) ব্যবহার না করা ।
  • শব্দের ভেতরে ড্যাশ ব্যবহার করা

৬. ইন্টার্নাল এবং এক্সটার্নাল লিংক অপ্টিমাইজ করাঃ

ইন্টার্নাল লিংকঃ এর মাধ্যমে একটি পেজের আভ্যন্তরিক অন্যান্য পেজের বা আর্টিকেলেকে লিংক করা হয়ে থাকে।

এক্সটার্নাল লিংক্ঃ এর মাধ্যমে পেজের বা আর্টিকেলের ভেতরে থাকা ওয়েবসাইটের বাইরের যে লিংক আছে সেটিকে ইংগিত করা হয়।

এই দুই ধরণের লিংকই কিন্তু এসইও এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এক্সটার্নাল লিংক্ঃ

সাধারণত যারা এসইও কাজের সাথে জড়িত বা যারা এসইও করে থাকেন তারা জানেন যে ব্যাকলিংক কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এক্সটার্নাল লিংকগুলো অন্যান্য ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে ভালো ব্যাললিংক হিসেবে কাজ করে থাকে। এর মাধ্যমে কি হয় জানেন? আপনি যখন অন্য একটি ওয়েবসাইটকে ব্যাকলিংক দিবেন তখন ঐ সাইটের বিশ্বাসযোগ্যতা তখন ইউজারদের কাছে বেড়ে যায়। শুধু কি তাই?

এক্সাটার্নাল লিংক আপনার পেজ বা আর্টিকেলে ব্যবহার করার মাধ্যমে আপনি র‍্যাংকিং এর ক্ষেত্রেও অনেকটা সুবিধা করতে পারবেন। কেননা এর মাধ্যমে গুগল বুঝতে পারে যে আপনি আপনার নির্ধারিত বিষয়টি ভালোভাবে কভার করছেন। তবে অন্যান্য ওয়েবসাইটের ব্যাকলিংক দেয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। আর সেগুলো হচ্ছে –

  • আপনি যে ওয়েবসাইটের সাথে লিংক দিচ্ছেন সেটি আপনার পেজ বা আর্টিকেলের সাথে রিলিভেন্ট কি না সেটি অবশ্যি চেক করে নিবেন। আপনার সাথে রিলেটেড নয় এওন সাইটের বা টপিকের লিংক এড করা থেকে বিরত থাকুন।
  • এমন কোন ওয়েবসাইটের সাথে লিংক স্থাপন করুন যেটার ডোমেইন অথোরিটি এবং পেজ অথোরিটি ভালো। তাহলে ইউজারদের বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে।

ইন্টার্নাল লিংকঃ

এবার আসি ইন্টার্নাল লিংক এ ব্যাপারে। ইন্টার্নাল লিংক সাধারণত আপনি আপনার ওয়েবসাইটের ভেতরে যে লিংকগুলো আপনার নির্ধারিত কোনো পেজে দিয়ে থাকেন সেটিকে বুঝায়। এক্ষেত্রে ইউজাররা কিন্তু আপনার উক্ত লিংকে ক্লিক করে আওনার ওয়েবসাইটেই থাকছে। যার ফলে সাইটের কনভারসেশন রেট বৃদ্ধি পায় ।

এছাড়াও ইন্টার্নাল লিংকিং এর মাধ্যমে গুগল বুজগতে পারে কোন পেজ আপনার ওয়েবসাইটে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেই সাথে নেভিগেশনের আপনার ওয়েবসাইটে কোন জিনিসটি খুঁজে পাওয়া ইজি হবে সেটিও গুগল বুজগতে পারে ইন্টার্নাল লিংকিং এর মাধ্যমে।

৭. ছবি অপ্টিমাইজ করাঃ

অন-পেজ এসইও এর এই পর্যায়ে এসে কথা বলবো ছবি অপ্টিমাইজ করা নিয়ে। একটি ব্লগে বা ওয়েবসাইটে যে পেজ বা আর্টিকেল থাকে তাদের জন্য অনেকেই ছবি ব্যবহার করে থাকেন। শুরুতে যে ছবি ব্যবহার করা হয় তাকে ফিচারড ইমেজ বলে। ছবি ব্যবহার করাটা সাইটের পেজের এসইও করার জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। শুধু কি তাই?

  • সাইটের স্পিড বাড়াতে চান?
  • আপনার পেজ কি নিয়ে তৈরী সেটা আরো স্পেসিফিক করে দিতে চান?
  • ছবি দিয়ে সার্চ রেজাল্টে র‍্যাংক করতে চান?

উপরের প্রশ্নগুলোর উত্তর যদি হ্যাঁ হয়ে থাকে তাহলে আপনাকে ছবি অপ্টিমাইজ এর কাজ করতে হবে। ছবি অপ্টিমাইজ করার ক্ষেত্রে আপনাকে তো অবশ্যই কিছু জিনিস খেয়াল রেখে কাজ করতে হবে।   কি সেই জিনিসগুলো চলুন দেখে নিই –

  • আপনি যে ছবি ব্যবহার করবেন সেটার একটি নির্দিষ্ট নাম দিবেন । কারণ ছবি অপ্টিমাইজেশনের ক্ষেত্রে গুগল ছবির নামকে চুজ করে থাকে র‍্যাংক করানোর জন্য।
  • ছবিকে অবশ্যই কমপ্রেস করে নিবেন সাইটে আপলোড করার আগে। কারণ ছবির আকার যত বড় হবে আপনার পেজ লোড হতে তত বেশি সময় লাগবে। আর জানেনই তো পেজ স্পিড সাইট র‍্যাংকিং এর ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কাজেই সাইটের স্পিড বা পেজের স্পিড বাড়াতে হলে ছবিকে কমপ্রেস করে নিবেন।
  • ছবির এক্সটেনশন হিসেবে GIF, JPG, JPEG, ফাইল ব্যবহার করবেন
  • ছবি অপ্টিমাইজ করার সময় ছবির ALT TAG অবশ্যই ব্যবহার করবেন। যদি কোন কারণবশঃত ছবি লোড হতে সমস্যা হয় তখন সেখানে ALT TAG ভেসে উঠবে। আপনার পেজ রিলেটেড অথবা টাইটেল রিলেটেড অথবা ফোকাস কিওয়ার্ড এখানে দিতে পারেন
  • আরেকটি বিষয় ছবি অপ্টিমাইজ করার সময় অবশ্যই খেয়াল রাখবেন। সেটি হচ্ছে ছবির ক্যাপশন দেয়া। ছবিটি কি সম্পর্কিত সেটি বুঝানোর জন্য আপনাকে ক্যাপশন ব্যবহার করতে হবে।
শেষকথাঃ

তো বন্ধুরা চলে এলাম একদম শেষের পর্যায়ে। এবার প্যাক করবো এই আর্টিকেল। এখানে অনেক কিছুই আমি আলোচনা করেছি। ভুল ভ্রান্তি যদি থেকে থাকে তাহলে কমেন্ট বক্সে তুলে ধরবেন। ধন্যবাদ। আর হ্যাঁ যারা এখনো আমার ব্লগ সাবস্ক্রাইব করেন নি তারা জলদি করে ফেলুন নিচের সাবস্ক্রাইব বক্স থেকে ।

About Post Author

Anup Deb Nath

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %

Anup Deb Nath

One thought on “অন পেজ এসইও কি? কিভাবে করবেন?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top
error: Content is protected !!