ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রকারভেদ গুলো কি কি?

Views: 202
0 0
Read Time:37 Minute, 33 Second

আজকের এই পর্বে আপনাদের স্বাগতম। গত পর্বে আমি আলোচনা করেছিলাম SEO কি? এসইও এর প্রকারভেদ গুলো কি কি? এই বিষয়ে। তবে আজকে আলোচনা করতে যাচ্ছি একটি বিশাল সেক্টর নিয়ে যার নাম হচ্ছে ডিজিটাল মার্কেটিং। আজকের এই পর্বে আপনি জানতে পারবনে- Digital Marketing কি? এবং ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রকারভেদ সম্পর্কে। তবে চলুন কথা না বাড়িয়ে শুরু করা যাক ।

ডিজিটাল মার্কেটিং কি? ( digital marketing কি )

Digital Marketing কি – সেটা জানার আগে চলুন জেনে নিই মার্কেটিং সম্পর্কে। মার্কেটিং এর জনক হচ্ছেন ফিলিপ কটলার। মূলত উনার হাত ধরেই মার্কেটিং এর সূত্রপাত। বিশ্বের বাঘা বাঘা সেরা ৫০ জন ব্যবসায়ী ব্যাক্তির মধ্যে তিনি অন্যতম। যাই হোক মূল কথা আসি।

Digital Marketing কি – সেটি যারা জানেন না তাদের উদ্দেশ্যে বলা – ডিজিটাল মার্কেটিং এমন একটি মেথড যেখানে আপনি বিভিন্ন ধরণের ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস যেমন মোবাইল, ট্যব, ল্যাপটপ ব্যবহার করার মাধ্যমে অনলাইনে মার্কেটিং করতে পারবেন। এই সিস্টেমে আপনি খুব সহজেই আপনার অডিয়েন্সের সাথে কানেক্ট হতে পারবেন, আপনার ব্রান্ড এর প্রচার প্রচারণা করতে পারবেন ।

ডিজিটাল মার্কেটিং কেনো করবেন? ডিজিটাল মার্কেটিং এর গুরুত্ব কি? এসব প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছি ছোট্ট একটি পরিসংখ্যানের মাধ্যমে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, চলতি সালে বড় বড় কোম্পানি গুলোর মার্কেটিং এর জন্য যে বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছিলো তার ৭০% এর চেয়েও বেশি ছিলো ডিজিটাল মার্কেটিং এর জন্য।  

ডিজিটাল মার্কেটিং এর বিভিন্ন ধরণের টেকনিক রয়েছে যেগুলো এপ্লাই করে আপনি আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য বেস্ট  রেজাল্ট বের করে নিয়ে আসতে পারবেন, সেই সাথে ডিজিটাল মার্কেটিং এর সুবিধা প্রতিষ্ঠানের কাজে লাগাতে পারবেন । ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রকারভেদ হিসেবে আজকে আমি ১২টি বিভিন্ন ধরণের ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে আলোচনা করবো। চলুন তাহলে দেখে নিই ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রকারভেদ গুলো –

  1. সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন
  2. সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং
  3. ইমেইল মার্কেটিং
  4. কন্টেন্ট মার্কেটিং
  5. ইনফ্লুয়েঞ্চার মার্কেটিং
  6. এফিলিয়েট মার্কেটিং
  7. মোবাইল মার্কেটিং
  8. পাবলিক রিলেশন কন্টেন্টস
  9. টেলিভিশন
  10. পে পার ক্লিক
  11. ভিডিও মার্কেটিং
  12. FAQs
digital marketing কি
digital marketing কি

বিগত কয়েক বছরে ডিজিটাল মার্কেটিং এর চাহিদা বেড়েছে বেশ কয়েকগুণ। ছোট, বড় বিভিন্ন ধরণের প্রতিষ্ঠানে এর ব্যবহার বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। আগামী বছর গুলোতেও এর চাহিদা হবে আকাশ্চুম্বী। কাজেই এই সেক্টরে যারা কাজ করবেন তাদের চাহিদাও থাকবে ব্যাপক। এসব দিক চিন্তা করলে ডিজিটাল মার্কেটিং ক্যারিয়ার হিসেবে কিন্তু খারাপ হবে না।

এখন আপনি স্বাভাবিকভাবেই জিজ্ঞেস করতে পারেন যে ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে শিখব ? কিংবা ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার উপায় কি কি? হ্যাঁ টি নিয়ে একটি আর্টিকেল লিখা হবে। সেটা পেয়ে যাবেন আমার নেক্সট পোস্টে।

ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রকারভেদ

এতোক্ষণ শুনলেন ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রকারভেদ এর শিরোনাম, এবার শুনবেন বিস্তারিত। হা হা ।

১. এসইও (সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন)-

ডিজিটাল মার্কেটিং, এই দুনিয়ায় সবচেয়ে বেশি পপুলার এবং একটি হট টার্মস হলো সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন অথবা এসইও। ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রকারভেদ গুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। এর মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য লীড নিয়ে আসতে পারবেন। কথা হচ্ছে এসইও করে আপনি কি কি করতে পারবেন? রাইট?

এসইও করে আপনি যা যা করতে পারবেন –

  • ব্লগে বা ওয়েবসাইটের জন্য অরগানিক ট্রাফিক নিয়ে আসতে পারবেন
  • সাইটকে গুগল সার্চ রেজাল্টে র‍্যাংকিং্যে নিয়ে আসতে পারবেন
  • সাইটের জন্য লিড তৈরী করতে পারবেন
  • সার্প এ এগিয়ে থাকতে পারবেন।

 সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন এর রয়েছে বেশ কিছু ধরণ। সেগুলো হচ্ছে –

  • ব্ল্যাক হ্যাট এসইও
  • গ্রে হ্যাট এসইও
  • হোয়াইট হ্যাট এসইও
  • ট্যাকনিকাল এসইও

আমার পরবর্তী আর্টিকেলে এসইও এর প্রকারভেদ নিয়ে বিস্তারিত সবকিছু জানতে পারবেন।

কিভাবে আপনি গুগল, বিং, ইয়াহু এর মত সার্চ ইঞ্জিনে আপনার সাইটকে টপ র‍্যাংকিং এ নিয়া আসবেন সে ব্যাপারে কিছু টিপস দিচ্ছি এখানে।

  • আপনি যে আর্টিকেল লিখবেন সেটার সাথে ডিটেইলড এন্ড রিলেটেড কিওয়ার্ডস ব্যবহার করা।
  • আর্টিকেলে সেই কিওয়ার্ডস ব্যবহার করা
  • লোডিং পেজ, মেটা ডেসক্রিপসন, ব্যাকলিংক তৈরী করা ইত্যাদি বিষয়গুলো ভালোভাবে করে সার্প ( সার্চ ইঞ্জিন রেজাল্ট পেজ ) এ এগিয়ে থাকা।

এসইও এর প্রকারভেদ সম্পর্কে জানতে নিচের এই আর্টিকেলটি পড়তে পারেন –

২. সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং-

সোশ্যাল মিডিয়ার কথা বললেই আমাদের সামনে ভেসে উঠে ফেসবুক, টুইটার, ইন্সতাগ্রাম, লিংকডইন এর কথা। এগুলো তো আমাদের নখদর্পনে। অনেকের তো আবার দু তিনটি করে এসব সাইটে একাউন্ট রয়েছে। হা হা হা। তবে যাই বলুন না কেনো এই সাইটগুলো বর্তমানে নানা কারণে আমাদের জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। আপনি কি দেখাতে পারবেন আপনার আশেপাশের এমন কাউকে যে কিনা এই সাইটগুলো ব্যবহার করে না। হাঁ, আমি জানি আপনি পারবেন না।

আর বর্তমানের এই মার্কেটিং এর যুগে ডিজিটাল মার্কেটং এর বদৌলতে সোশ্যাল মিডিয়া হয়ে উঠেছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কেনো? এর উত্তর যদি দিতে চাই তাহলে বলতে হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়াতে সবচেয়ে বেশি অডিয়েন্স এংগেজমেন্ট হয়ে থাকে। পার্সোনাল কাজ হোক, ব্যবসার কাজ হোক কিংবা যাই হোক না কেনো মানুষ দিনে একবার হলেও সোশ্যাল মিডিয়াতে ঢু মারবেই। আর এইখানেই ডিজিটাল মার্কেটিং তার আসল খেলা দেখিয়ে থাকে।

তো এখন, আপনার মনে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কি- নিশ্চই এই সংক্রান্ত প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।  হাঁ বলছি। সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আপনি অনলাইনে যে মার্কেটিং সংক্রান্ত কাজ করবেন অর্থাৎ আপনার ব্যবসার প্রচার, প্রসারসহ যাবতীয় অন্যান্য বিষয় সেটিই হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং।

এই মার্কেটিং সিস্টেমেরও রয়েছে বেশকিছু প্রকারভেদ। চলুন দেখে নিই প্রকারভেদগুলো কি কি –

  • ফেসবুক মার্কেটিং
  • টুইটার মার্কেটিং
  • ইন্সতাগ্রাম মার্কেটিং
  • লিংকডইন মার্কেটিং
  • পিনটারেস্ট মার্কেটিং
  • রেডিট মার্কেটিং
  • টাম্বলার মার্কেটিং

তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে ভালো এংগেজমেন্ট পেতে হলে আপনাকে কোন সময়, কখন, কি কি ধরনের পোষ্ট করতে হবে সেগুলোর উপর দক্ষতা আনতে হবে। কেননা একটি সময় ছিলো যখন মানুষ টেক্সট বেইজড পোষ্ট বেশি করতো। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় এখন ভিডিও পোষ্টের সংখ্যা বেড়েছে টেক্সট বেইজড কন্টেন্টের চাইতেও কয়েকগুণ বেশি। আর ভিডিও বেইজড কন্টেন্টে মানুষ এংগেজমেন্টও দিচ্ছে বেশি। 

 আর হবেই না বা কেনো। টেক্সট বেইজড কন্টেন্টের চাইতে ভিডিও বেইজড কণ্টেন্টে এখন মানুষ মজেছে বেশি, এটাও তো বুঝতে হবে। যে যাই হোক ভিডি কন্টেন্টের ব্যপারে আলোচনা হবে আমার অন্য একটি আর্টিকেলে।  সেখানে বিভিন্ন ধরণের এক্সপেরিমেন্টের কথা বলবো।

digtial marketing কি
digtial marketing কি

৩. কন্টেন্ট মার্কেটিং-

এই হলো আরেকটি পয়েন্ট। কন্টেন্ট মার্কেটিং। আপনি যে ডিজিটাল মার্কেটিং করবেন, সেটা কিসের উপর ভিত্তি করে করবেন? এজন্য আপনার সবার আগে প্রয়োজন হাই কোয়ালিটি কন্টেন্ট। উয়েস, হাই কোয়ালিটি কন্টেন্ট। কেননা একমাত্র হাই কোয়ালিটি কন্টেন্টই পারে আপনাকে আপনার কাংখিত গৌলে নিয়ে যেতে। এখানে হাই কোয়ালিটি কন্টেন্ট বলতে এমন ধরণের কন্টেন্টকে বুঝানো হয়েছে যেগুলোর মাধ্যমে আপনার এংগেজমেন্ট বাড়বে, লীড বাড়বে, লীড থেকে সেল আসবে । মানে সোঝা কথায় কন্টেন্টটি কার্যকরী হবে, ব্যস।

আবার দেখুন, ব্লগিং এর ক্ষেত্রেও কন্টেন্ট জরুরি। আপনার সাইটে যদি কন্টেন্টই না থাকে তাহলে আপনার ভিজিটর এসে কি পড়বে আপনার সাইটে? আপনি সাইট র‍্যাংক করাবেন কিভাবে? অন-পেজ এসইও করবেন কিভাবে? এরকম আরো অনেক প্রশ্নেরই সম্মুক্ষীন আপনাকে হতে হবে যদি কন্টেন্ট আপনি তৈরী না করেন।

কিছু কন্টেন্টের ধরণ আমি আপনাদের সুবিধেরথে নিচে উল্লেখ করে দিচ্ছি –

  • ব্লগ পোষ্টের জন্য কন্টেন্ট
  • ইন্টারভিউ কন্টেন্ট
  • সার্ভে কন্টেন্ট
  • কেস স্টাডি কন্টেন্ট
  • হাও টু কন্টেন্ট
  • বিগিনার গাইড কন্টেন্ট
  • আলটিমেট গাইড কন্টেন্ট
  • স্লাইডস কন্টেন্ট
  • টেমপ্লেটস কন্টেন্ট
  • প্রোডাক্ট রিভিউ কন্টেন্ট
  • ইনফোগ্রাফিক্স কন্টেন্ট
  • ভ্লগস কন্টেন্ট
  • প্রেস রিলিজ কন্টেন্ট

মোটামুটি এই টপিক গুলোর উপরেই কন্টেন্ট তৈরী হয়ে থাকে। এখন আপনি কি ধরণের কন্টেন্ট তৈরী করতে যাচ্ছেন, আপনার অডিয়েন্স কারা ইত্যাদি বিষয় মাথায় রেখে তবেই আপনাকে কন্টেন্ট তৈরীতে মনযোগী হতে হবে। শুধু কি তাই?

আপনার কোন ধরণের কন্টেন্টে অডিয়েন্সের সাড়া বেশি আসছে, কোন ধরনের কন্টেন্ট একেবারেই লো রেজাল্ট দিচ্ছে সেগুলোও আপনাকে আইডেন্টিফাই করে এগিয়ে যেতে হবে।

৪. ইমেইল মার্কেটিং- ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রকারভেদ

বর্তমানে সবচেয়ে দ্রুত যোগাযোগ মাধ্যম বলতে যদি কিছু থাকে তবে সেটি হচ্ছে ইমেইল । আপনি বিশ্বের যে প্রান্তেই থাকুন না কেনো ইমেইলের মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই অন্য কোথাও দ্রুত যোগাযোগ করতে পারবেন। এছাড়াও আপনি ইমেইলের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরণের ডকুমেন্ট যেমন ইমেজ, ডক ফাইল, পিডিএফ ফাইল ইত্যাদি নিমিষের মাঝেই অন্য কোথাও পাঠাতে পারবেন।  আর হ্যাঁ, এখন স্বাভাবিকভাবেই আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে যে, ইমেইল তো ঠিক আছে কিন্তু এই ইমেইল মার্কেটিঙ্গ আসলে কি? হাঁ হাঁ বলছি –

মূলত ইমেইলের মাধ্যমে আপনি যে মার্কেটিং করে থাকবেন সেটিই হচ্ছে ইমেইল মার্কেটিং। আপনি হয়তো ইমেইলের মাধ্যমে বিভিন্ন সাইটে একাউন্ট খুলেছেন। সেই সকল ওয়েবসাইট কিন্তু তাদের প্রোমোশনের কাজে আপনার ইমেইল ব্যবহার করে থাকবে। তাদের বিভিন্ন ধরণের অফার থাকবে সেগুলো ইমেইলের মাধ্যমে আপনাকে তারা জানিয়ে দিবে। এই যে প্রসেসটাই হলো ইমেইল মার্কেটিং।

ইমেইল মার্কেটিং এরও কিন্তু বেশ কয়েকটি প্রকারভেদ রয়েছে। চলুন দেখে নিই সেগুলো কি কি –

  • ওয়েলকাম ইমেইল
  • ইমেইল নিউজলেটার
  • লিড নার্চারিং ইমেইল
  • ডেডিকেটেড ইমেইল
  • স্পনসরশিপ ইমেইল
  • ট্রান্সেকশনাল ইমেইল
  • রি-এংগেজমেন্ট ইমেইল
  • ব্রান্ড স্টোরি ইমেইল
  • সিসনাল ইমেইল
  • ইভেন্ট ইনভাইটেশন ইমেইল ইত্যাদি।

৫. ইনফ্লুয়েঞ্চার মার্কেটিং-

আমার মনে হয় এই পয়েন্ট দেখেই আপনি হয়তো মনে মনে ভাবছেন যে কিরেহ বাবা এই ইনফ্লুয়েঞ্চার মার্কেটিংটা আবার কি? রাইট? হাঁ হাঁ শুনুন তাহলে । ইনফ্লুয়েন্স মানে তো জানেন, উদ্বুদ্ধ করা। আর যারা এই কাজ  করে থাকেন তাদেরকে বলা হয় ইনফ্লুয়েঞ্চার । বুঝা গেলো এতটুকু?

এব্র আসি মার্কেটিং এর ব্যাপারে। যে বা যারা আপনার ব্যবসার প্রচার, প্রসার কিংবা ব্রান্ড প্রোমোশনের জন্য, অন্যকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য মার্কেটিং সংক্রান্ত কাজে জড়িত থাকেন তাদেরকেই বলা হয় ইনফ্লুয়েঞ্চার মার্কেটিং। এক্ষেত্রে কারা হতে পারেন এই ইনফ্লুয়েঞ্চার ? একটু আইডিয়া করুন তো। হ্যাঁ ঠিক ধরেছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ইনফ্লুয়েঞ্চার মার্কেটিং এর জন্য বড় বড় সেলিব্রেটিদের দিয়ে কাজ করানো হয়।

লাক্স সাবানের এডভার্টাইজমেন্টের কথাই ধরুন। কারিনা কাপুর আর সাইফ আলী খান এখানে কাজ করেছে। ভারতে অনেক মানুষ আছে তাদের বিগ ফ্যান। তারা এই এড দেখে এই সাবান কেনার প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করবে এটিই স্বাভাবিক।

আবার দেখুন সালমান খান আগে করতো ফেয়ার এন্ড হ্যান্ডসাম ক্রিমের এডভার্টাইজমেন্ট। সালমানের যে একটি বিগ ফ্যান সার্কেল আছে এটাতো আমরা সবাইই জানি। তো তার এই এড দেখে যে ইয়ং জেনারেশনের পোলাপান এই হ্যান্ডসাম ক্রিম ক্রয় করবে না সেটা কি হয়?

ঠিক এই ভাবেই কিন্তু সেলিব্রেটিদের দিয়ে মার্কেটিং করানো হয়। তবে এজন্য কোম্পানিদেরও গুনতে হয় প্রচুর টাকা। কেননা এধরণের মার্কেটিং এর জন্য ইনফ্লুয়েঞ্চাররা মোটা অংকের টাকা পেয়ে থাকেন। কি হবেন নাকি ইনফ্লুয়েঞ্চার? তো যাই হোক বন্ধুরা। এই ইনফ্লুয়েঞ্চার মার্কেটিং এরও কিন্তু রয়েছে বেশ কয়েকটি প্রকারভেদ। চলুন তাহলে একনজরে দেখে নিই এই প্রকারভেদগুলো কি কি –

  • হোস্ট গিভএওয়ে
  • সোশ্যাল মিডিয়া টেকওভার
  • এফিলিয়েট মার্কেটিং
  • স্পনসরড ব্লগ পোষ্ট
  • গেস্ট ব্লগিং
  • স্পনসরড সোশ্যাল মিডিয়া কন্টেন্ট
  • গিফটস
  • ব্রান্ড এম্বাসেডর প্রোগ্রাম

ভাই, এখন কথা হচ্ছে আপনি কেনো ইনফ্লুয়েঞ্চার মার্কেটিং এর জন্য বিনিয়োগ করবেন? তাই না? যারা ইনফ্লুয়েঞ্চার মার্কেটিং এর জন্য কাজ করেন মানে হচ্ছে যারা এখানে ইনফ্লুয়েঞ্চার থাকেন তারা নিজেরাই একেকটি ব্রান্ড। তাদের ফেস ভ্যালু আমার আপনার চাইতে অনেক অনেক বেশি। তারা মানুষকে যা খাওয়াবে মানুষও তাই খাবে। বুঝেন নাই?

আপনি টিভি চ্যানেলগুলো অন করে দেখুন। দেখবেন প্রতিনিয়ত অহরহ এমন বিজ্ঞাপন আপনার চোখের সামনে ভেসে আসবে যেখানে পরিচিত অনেক অনেক সেলিব্রেটিরা বিভিন্ন কোম্পানির প্রোডাক্টের প্রোমশনের কাজ করছেন। এবার আপনিই বলুন আপনার উত্তর কি হওয়া উচিত?

digtial marketing কি
digtial marketing কি

৬. এফিলিয়েট মার্কেটিং-

এবার আসা যাক এফিলিয়েট মার্কেটিং এর ব্যাপারে। এতক্ষণ তো অনেক ধরণের মার্কেটিং এর কথা শুনলা। এবার একটু ডিটেইলসে জানবো যে এফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে। বর্তমান সময়ে যতগুলো ডিজিটাল মার্কেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে অন্যতম একটি জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে এফিলিয়েট মার্কেটিং। মূলত এই মার্কেটিং এর মাধ্যমে একজন একজন মার্কেটের, ব্লগার, ভ্লগার সেলারের কাছ থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন ধরণের প্রোডাক্টের ক্রয় করার লিংক তার অডিয়েন্সের কাছে শেয়ার করে থাকেন।

এই লিংক থেকে যদি আপনি কোনো প্রোডাক্ট ক্রয় করে থাকেন তবেই উক্ত মার্কেটের, ব্লগার, ভ্লগার সেটি বিক্রয় বাবদ সেলারের কাছ থেকে নির্ধারিত কমিশন পেয়ে যাবেন। আর এই পুরো সিস্টেমই হচ্ছে এফিলিয়েট মার্কেটিং। যারা এই কাজের সাথে জড়িত থাকেন তাদেরকে বলা হয় এফিলিয়েট মার্কেটার।

তবে একটি কথা কি জানেন, এফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে কিন্তু আপনিও আপনার ব্যবসাকে প্রচুর মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারবেন, সেই সাথে আপনার ব্যবসার আওতাও বড় হবে অনেকটাই। ব্যবসা যত বড় হবে সেখান থেকে প্রফিটের পরিমাণও বাড়তি আসবে, এটাই স্বাভাবিক।

এটি সেলার আর এফিলিয়েট মার্কেটার দুজনের জন্যই দারুণ একটি কার্যকরী মাধ্যম। কারণ সেলারও তার প্রোডাক্ট বিক্রি করতে পারছে, তার ব্যবসা আরো মানুষের কাছে পৌঁছে দিত পারছে। আর অন্যদিকে এফিলিয়েট মার্কেটারও তার নির্ধারিত কমিশন পেয়ে যাচ্ছে যার ফলে তারও উপার্জন হচ্ছে। এখন আপনি হয়তো ভাবতে পারেন যে তাহলে এফিলিয়েট মার্কেটিং আর ইনফ্লুয়েঞ্চার মার্কেটিং এর মাঝে পার্থক্য কি? তাই না?

হ্যাঁ বলছি।

এফিলিয়েট মার্কেটিং করে আপনি কমিশন পাবেন তখনই যখন একটি প্রোডাক্ট সেল হবে। অর্থাৎ প্রোডাক্ট সেল হওয়া মানেই আপনার কমিশন অর্জিত হওয়া। কিন্তু ইনফ্লুয়েঞ্চার যারা থাকেন তারা একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা মার্কেটিং বাবদ পেয়ে থাকেন। ঠিক এইখানেই খেলা দেখাবে এফিলিয়েট মার্কেটিং। কারণ আপনার সেল তো এর একবার হবার পর থেমে থাকবে না। যতবার সেল হবে ততবার আপনি কমিহসন পাবেন। কিন্তু ইনফ্লুয়েঞ্চাররা বারবার টাকা পাবেন না। আপনি যে সাইট/ব্লগ দিয়ে এফিলিয়েট মার্কেটিং করবেন সেটাতে যদি হিউজ পরিমাণ ট্রাফিক থাকে তাহলে আপনার আয়ও কিন্তু কম হবে না। আর এটি দিনে দিনে বৃদ্ধি পাবে।

বন্ধুরা, এফিলিয়েট মার্কেটিং এর কিন্তু রয়েছে বেশ কয়েকটি প্রকারভেদ। চলুন দেখে নিই সেগুলো কি কি –

  • কন্টেন্ট মার্কেটিং প্রোগ্রামস
  • কুপন-সাইট প্রোগ্রাম
  • রিভিউ-সাইট প্রোগ্রাম
  • লয়ালটি প্রোগ্রামস
  • ইনসেন্টিভ প্রোগ্রামস
  • ডিজিটাল এসেটস
  • ট্রাডিশনাল মিডিয়া
  • শপিং কমপেরিশন
  • নিউজ এন্ড মিডিয়া সাইটস

৭. পাবলিক রিলেশন কন্টেন্ট-

এটা আবার কি? খায় নাকি মাথায় দেয়?  হাঁ হাঁ  । এই টাইপের মার্কেটিং আপনি অনলাইন অফলাইন দুভাবেই করতে পারবেন। যদিও এর শুরুটা দেরিতে হয়েছে কিন্তু তারপরেও এটি বর্তমানে অনলাইন মার্কেটিং হিসেবে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। পাবলিক রিলেশন কন্টেন্ট এমন একটি স্ট্রাটেজি যার মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠান এবং তার ক্লায়েন্টসদের মাঝে সম্পর্ক তৈরী করে থাকে। বলতে পারেন প্রতিষ্ঠান আর ক্লায়েন্টসদের মাঝে সম্পর্কের উন্নয়ন সাধন করে থাকে এই পাবলিক রিলেশন কন্টেন্ট।

যে যাই বলুক না কেনো এই পিআর ( পাবলিক রিলেশন ) কন্টেন্ট ছোট বড় সকল ধরণের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য দারুণ কার্যকরী। বিশেষ করে তাদের টার্নওভারের ক্ষেত্রে। ডিজিটাল প্রোমোশনের ক্ষেত্রে যে টেকনিক বা স্ট্রাটেজিগুলো ব্যবহার করা হয় সেটার রেজাল্টের অবস্থা কি সেটা আপনি জানতে পারবেন এই পিআর কন্টেন্টের মাধ্যমে।

চলুন দেখে নিই পাবলিক রিলেশন কন্টেন্টে কি কি বিষয়ের উপর আলোকপাত করা হয়-

  • যারা আপনার প্রোডাক্টস নিয়েছে তাদের রিভিউ কেমন, তাদের অপিনিয়নটা কেমন সেটা
  • ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আপনার ব্যবসার/সার্ভিসের/প্রোডাক্টের প্রচার করা
  • পিআর প্ল্যাটফর্মস বা ওয়েবসাইট থেকে ব্যাকলিংক নেয়া।

রিভিউ নেয়ার ক্ষেত্রে একদম হনেস্টলি নেবেন।  বট ব্যবহার করে কিংবা অন্য কাউকে ইনফ্লুয়েন্স করে কখনোই রিভিউ নেবেন না।

৮. মোবাইল মার্কেটিং-

মোবাইল তো আমরা সবাই কম বেশি ব্যবহার করি, তাই না? কম বেশি  বললে ভুল হবে, সবার কাছেই মোবাইল আছে। কিন্তু আপনি কি জানেন যে এই মোবাইল দিয়ে আপনি মার্কেটিং করতে পারবেন? হ্যাঁ বর্তমান এই সময়ে বেশিরভাগ কোম্পানি কিংবা প্রতিষ্ঠানের রয়েছে মোবাইল/এন্ড্রয়েড এপ্স। যা তারা বিশেষভাবে তাদের ইউজারদের জন্য তৈরী করে থাকে। আপনার চোখের সামনেই রয়েছে এমন অনেক উদাহরণ যেমন – ফেসবুক, টুইটার, ইন্সতাগ্রাম, হোয়াটসআপ ইত্যাদি।

আপনি হোয়াটসআপ কিংবা মেসেঞ্জারের মাধ্যমে সরাসরি আপনার ক্লায়েন্টসদের সাথে যোগাযোগ রাখতে পারবেন। মেসেজ থেকে শুরু করে ভিডিও কল সবকিছুই করতে পারবেন আপনি এই সোশ্যাল এপ্সগুলো ব্যবহার করার মাধ্যমে। চলুন একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি বুঝিয়ে দেয়া যাক।

ধরুন আপনার একটি কাপড়ের দোকান আছে। এখন আপনি এই কাপড়ের দোকানের মার্কেটিং করতে চাচ্ছেন এই সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে।  যাতে আপনি আরো বেশি ক্লায়েন্টস পান। এই এপ্সগুলো ইন্সটেন্টলি মেসেজিং সুবিধা দিয়ে থাকে বিধায় আপনি ডিরেক্টলি আপনার ক্লায়েন্টসদের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখতে পারবেন।

ডিজিটাল মার্কেটিং
digtial marketing কি

৯. টেলিভিশন/টিভি –

হাঁ হাঁ, ভাবছেন এটাও কি আবার ডিজিটাল মার্কেটিং এর আওতায় পড়ে? অবশ্যই পড়ে। বর্তমান সময়ে এডভার্টাইজিং কিংবা কোনো ব্রান্ড প্রোমোশনের ক্ষেত্রে টেলিভিশন অনেক বড় একটি ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে থাকে। এখনো অনেক মানুষ আছেন যারা প্রতিনিয়ত  টেলিভিশনে খবর দেখে থাকেন।  এই খবর প্রচারের সময়ও কিন্তু টিভিতে বিভিন্ন কোম্পানির এড দেখানো হয়ে থাকে।

সম্প্রতি ঐক্য ডট কম ডট বিডি নামের একটি খেলাধুলার ওয়েবসাইট চালু হয়েছে যেখানে আপনি বিভিন্ন ধরণের খেলাধুলার খবর পাবেন। যখন কোনো দেশিয় চ্যানেলে আপনি খবর দেখবেন তখন দেখবেন তারা খেলাধুলার সেক্টরের খবর বলবার সময় এই ওয়েবসাইটের নাম ম্যানশন করে তারপরে খবর পড়ে থাকে।

ব্যাপারটা ঠিক এরকম – সুপ্রিয় দর্শক এখন আপনারা দেখবেন ঐক্য ডট কম ডট বিডি খেলার খবর। এই যে একটি প্রতিষ্টান/কোম্পানি/ওয়েবসাইটের নাম ম্যানশন করা হয় নিউজের সময় তখন স্বাভাবিকভাবেই মানুষের ব্রেইন ঐ নামটি ক্যাচ করে থাকে।। আর এভাবেই ধীরে ধীরে মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে চেঞ্জ নিয়ে আসছে ডিজিটাল মাধ্যমগুলো।

শুধু তাই নয়, টেলিভিশনের মাধ্যমে আপনি মার্কেটিং করে অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমগুলোর চাইতে আরো বেশি এংগেজমেন্ট পাবেন বিশেষ করে ব্রান্ড এর প্রচার আর প্রসারের ক্ষেত্রে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় কিছু ভিন্ন ভিন্ন ধরণের মার্কেটিং স্ট্রাটেজি মার্কেটাররা অনুসরণ করে থাকেন।

কেউ কোনো নির্দিষ্ট চ্যানেলে শুধু তাদের প্রোডাক্টসেরই বিজ্ঞাপন একটানা ২/৩ দিন দেখিয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে অন্য কোম্পানির বিজ্ঞাপন তখন উক্ত সময়ের ভেতরে ঐ চ্যানেলে দেখানো হয় না।

আবাএ অনেক সময় দেখা যায় কোনো ফেস্টভালে নির্দিষ্ট সময় ধরে কোন ব্রান্ডের প্রচারণা চালানো হয়ে থাকে। মূলত একেকজন একেক ধরণের মাইন্ড সেট করে মার্কেটিং করে থাকে।

১০. FAQS-

Frequently Asked Questions কে সংক্ষেপে FAQS বলা হয়ে থাকে । ভাবছেন এগুলো আবার কিভাবে ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রকারভেদ হয়ে থাকে তাই তো? তাহলে শুনুন বলছি- Frequently Asked Questions হচ্ছে এমন একটি স্ট্রাটেজি যার মাধ্যমে আপইন আপনার ক্লায়েন্টসদের কোনো প্রোডাক্টের ব্যাপারে থাকা কনফিউশন দূর করতে সহায়তা করে থাকে। এর মাধ্যমে প্রোডাক্ট সম্পর্কে ক্লায়েন্টসদের যথাযথভাবে জানানো হয়। এছাড়াও এই সেকশনে সেসব প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয় যেগুলো একজন কাস্টমার সচরাচর জিজ্ঞেস করে থাকেন।

আর এই সেকশনটি আপনি বিভিন্ন কোম্পানি কিংবা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে পেয়ে যাবেন। সেখানে গেলে আপনি দেখতে পাবেন বিভিন্ন ধরণের প্রশ্নের উত্তর সেখানে দেয়া হয়েছে যেগুলো ঐ কোম্পানির কিংবা প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পর্কিত। আর এগুলা সাধারণতনেক ক্ষেত্রেই ইউজার ফ্রেন্ডলি হয়ে থাকে, যাতে সহজেই ইউজাররা এগুলো পেয়ে থাকেন। কোনো কোনো ওয়েবসাইটে কলাপ্স মেনু হিসেবেও Frequently Asked Questions কে এড করা হয়।

১১. ভিডিও/অডিও মার্কেটিং-

ভিডিও মার্কেটিং এর কথা যদি বলি তাহলে প্রথমেই যে জিনিসটি মাথায় আসে সেটি হচ্ছে ইউটিউব। কেননা ইউটিউব হচ্ছে এই তাবড় দুনিয়ার সবচেয়ে বড় ভিডিও শেয়ারিং সাইট। এখানে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ ভিডিও আপলোড করা হচ্ছে। লক্ষ লক্ষ একাউন্ট প্রতিদিন এখানে তৈরী হচ্ছে। কেনো হচ্ছে? ঐ যে বললাম না, সবচেয়ে বড় ভিডিও শেয়ারিং সাইট। এছাড়াও এখানে রয়েছে টাকা আয় করার নানা ধরণের সুবিধা।

এবার আসি ভিডিও মার্কেটিং এর ব্যাপারে। ডিজিটাল মার্কেটিং এর মধ্যে সফল একটি মাধ্যম হচ্ছে ভিডিও মার্কেটিং। এই মার্কেটিং করার জন্য মূলত ভিডিও কন্টেন্ট ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আর আমি তো আগেই বলেছি সবচেয়ে বেশি এংগেজমেন্ট, তৈরী করা সম্ভব ভিডিও কন্টেন্টের মাধ্যমে।

শুরুর দিকে ভিডিও মার্কেটিং এতো জটিল না হলেও বর্তমানে অনেক কঠিন হয়ে উঠেছে। চারিদিকে বাড়ছে আপনার প্রতিযোগী। সবাইই চায় তার  প্রতিষ্ঠানের প্রচার, প্রসার ভালো করে হোক। যেহেতু মানুষ এখন ভিডিও কন্টেন্টকে প্রাধান্যতা দিচ্ছে বেশি তাই মার্কেটিংও হচ্ছে এই সেক্টরে বেশি। সবাইই দেখা যাচ্ছে কোয়ালিটি কন্টেন্ট তৈরীর দিকে ঝুঁকছে। যার ফলে প্রতিযোগীতার হারও বেড়ে যাচ্ছে।

যাই হোক নিচে আমি ভিডিও মার্কেটিং এর কয়েকটি প্রকারভেদ তুলে ধরছি –

  • শিক্ষামূলক ভিডিও
  • কোম্পানি কালচার ভিডিও
  • প্রোডাক্ট ভিডিও
  • টেস্টমোনিয়াল ভিডিও
  • ইভেন্ট ভিডিও ইত্যাদি

ভিডিও মার্কেটিং নিয়ে আমি পুরো একটি আর্টিকেল নিয়ে আসছি কিছুদিনের ভেতরেই। সেখানে আপনারা আরো বিস্তারিত জানতে পারবেন এই মার্কেটিং সিস্টেম সম্পর্কে।

১২. পিপিসি অথবা পে পার ক্লিক-

নাম শুনেই ঘাবড়ে যাবার কিছু নেই।  পিপিসি হচ্ছে digital marketing এরই একটি অংশ। এটি মূলত একটি পেইড মার্কেটিং মেথড যেখানে সার্চ ইঞ্জিনের র‍্যাংকিং্যে টপে থাকার জন্য কিংবা সাইটে ট্রাফিক নিয়ে আসার জন্য টাকা খরচ করা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে আপনি পিপিসি আর এসইও এর মাঝে মিল হয়তো খুঁজে পাবেন। কিন্তু এই দুটি সিস্টেমের মাঝে একটি বড় পার্থক্য হচ্ছে এসইও জানলে আপনি অর্গানিক পদ্ধতিতে কাজ করতে পারবেন কিন্তু পিপিসিতে আপনাকে টাকা খরচ করিয়ে কাজ করাতে হবে।

সাধারণত যেসকল সাইট পিপিসিতে কাজ করে থাকে গুগল সার্চ ইঞ্জিনে তাদের সাইটকে প্রথম দিকে দেখানো হয়ে  থাকে। যার ফলে অধিকাংশ ভিজিটরই ঐ সাইটগুলোতে ব্রাউজ করে এবং ঐসাইটগুলোর ভিজিবিলিটিও বৃদ্ধি পায়। আপনি যখন কোন বিষয় নিয়ে গুগল সার্চ করবেন তখন গুগল পিপিসি ব্যবহারকৃত সাইটগুলোকে যে আপনার সামনে প্রদর্শন করিয়ে থাকে সেটাকে বলা হয় স্পনসরড রেজাল্ট। কথা কি ক্লিয়ার? নাকি ভেজাল আছে? হাঁ হাঁ

ডিজিটাল মার্কেটিং PDF ( digital marketing pdf )

আপনাদের সুবিধার জন্য এখানে আমি কয়েকটি ডিজিটাল মার্কেটিং PDF এড করে দিচ্ছি। চাইলে পড়ে দেখতে পারেন।

Understanding Digital Marketing—Basics and Actions

 A CRITICAL REVIEW OF DIGITAL MARKETING IN BANGLADESH

ডিজিটাল মার্কেটিং  ব্লগ –

যারা digital marketing pdf এর পরিবর্তে digital marketing ব্লগ পড়তে চাচ্ছেন তাদের জন্য কয়েকটি ব্লগের লিংক নিচে সংযুক্ত করে দিচ্ছি –

Blog & Articles | Digital Marketing Institute

Neil Patel’s Digital Marketing Blog

DigitalMarketer Blog

শেষকথা-

তো বন্ধুরা, এই ছিলো আমাদের আজকের ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রকারভেদ নিয়ে আলোচনা। বলতে পারেন ডিজিটাল মার্কেটিং এ টু জেড এই  ১২ টি বিষয়ে এখানে আমি তুলে ধরেছি। কিন্তু এর বাইরেও আরো অনেক ধরণের সিস্টেম রয়েছে। তবে এগুলোই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়ে থাকে মার্কেটিং দুনিয়ায়।

আপনি চাইলে নিজেও এই মার্কেটিং এর কাজ করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনাকে ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে হবে। ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে কতদিন লাগে? এটি নির্ভর করছে আপনার উপর। সাধারণত ৬-৮ মাসের ভেতরে শিখতে পারবেন। তবে বিষয়টি আপনি যত গুরুত্ব দিয়ে শিখবন ততই আপনার জয়নভালো হবে। কেননা আমি উপরে বলেছি ডিজিটাল মার্কেটিং ক্যারিয়ার হিসেবে আগামি দিনগুলোতে চাহিদায় পরিণত হবে।

About Post Author

Anup Deb Nath

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %

Anup Deb Nath

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top
error: Content is protected !!