SEO কি? এসইও এর প্রকারভেদ গুলো কি কি?

Views: 219
0 0
Read Time:24 Minute, 6 Second

SEO কি? এসইও এর প্রকারভেদ গুলো কি কি?

বর্তমান সময়ে এসইও সম্পর্কে জানেন না এমন মানুষ খুব কমই আছেন। বিশেষ করে যারা ব্লগিং থেকে শুরু করে ডিজিটাল মার্কেটিং এর সাথে জড়িত। একটি ব্লগকে র‍্যাঙ্ক করানোর ক্ষেত্রে এসইও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসইও যে শুধু এক ধরণের তা নয়, এর রয়েছে বেশ কিছু প্রকারভেদ। আমাদের আজকের এই আর্টিকেলে আমরা seo কি এবং এসইও এর প্রকারভেদ (SEO কত প্রকার ও কি কি) সম্পর্কে জেনে নিব। সেই সাথে দেখে নিব এসইও শেখার কিছু রিসোর্স।

এসইও কি ( SEO কি )

এসইও এর প্রকারভেদ সম্পর্কে জানার আগে আমাদের জানতে হবে SEO কি। এসইও যার পূর্ণরূপ হচ্ছে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন । অর্থাৎ এসইও করার মাধ্যমে সার্চ ইঞ্জিনকে অপ্টিমাইজ করে কাজ করা হয়। এট থেকে আমরা বুঝতে পারি যে এসইও এর কাজই হচ্ছে সার্চ ইঞ্জিনকে নিয়ে। ছোট্ট একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টা আমি ক্লিয়ার করে দিচ্ছি –

ধরুন আপনি কোনো একটি বিষয় সম্পর্কে জানতে চান। সেজন্য আপনি আপনার কাঙ্খিত শব্দ লিখে গুগলে সার্চ করলেন। যার ফলে অল্প কয়েক সেকেন্ডের ভেতরেই গুগল আপনার সামনে বেশ কিছু সার্চ রেজাল্ট নিয়ে আসবে। আপনি তখন ঐ সার্চ রেজাল্ট থেকে যেকোনো লিংকে ঢুকে আপনার প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়ে নেন।

এই যে সার্চ রেজাল্টে যে লিংকগুলো আপনি প্রথম পেজে দেখতে পান এগুলোকে প্রথম পেজে আনার জন্য এসইও করতে হয়েছে। যে যত ভাল এসইও করতে পারবে সে তত এগিয়ে থাকবে সার্চ রেজাল্টে।  আপনি খেয়াল করে দেখুন গুগলের সার্চ রেজাল্টের ২য়, ৩য় পেজেও কিন্তু অনেক লিংক পাবেন। কিন্তু আপনি ঐ লিংকগুলোতে যাবেন না। কেননা সার্চ রেজাল্টের প্রথম পেজে যে লিংক গুলো আছে সেখান থেকেই আপনি আপনার দরকারী তথ্য পেয়ে যাবেন।

এজন্যই মানুষ গুগলের ২য় পেজে যায় না। যারা ২য়, ৩য় বা তার চাইতে পেছনের দিকে তাদের এসইও প্রথম পেজে যারা আছে তাদের চাইতে ভালো হয়নি । নাহলে তো তারা প্রথম পেজে থাকতো তাই না? তো আশা করি আপনারা seo কি সে ব্যাপারে কিছুটা আঁচ করতে পেরেছেন।

এসইও এর প্রকারভেদ ( SEO কত প্রকার ও কি কি )

এসইও যার মাধ্যমে একটি ওয়েবসাইটকে তার ইউজারদের কাছে ফ্রেন্ডলি হিসেবে উপস্থাপিত করা যায়। এসইও এর মূল কাজই হচ্ছে একটি ওয়েবসাইটের অর্গানিক ট্রাফিক বৃদ্ধি করা, সেই সাথে ঐ ওয়েবসাইটকে গুগলের সার্চ রেজাল্টে র‍্যাঙ্ক করানো। যখন এসইও তার যাত্রা শুরু করে অর্থাৎ প্রথম দিকে এসইও করাটা খুবই সিম্পল থাকলেও বর্তমানে এসে বিষয়টা অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়েছে। দিনকে দিন প্রতিযোগিতাও বেড়েছে।

এছাড়াও এসইওকে সহজ করে তোলার জন্য এসইও ইন্ডাস্ট্রি এর বেশ কয়েকটি প্রকারভেদ বের করেছে। আমরা মূলত আজকে এসইও এর এইসব প্রকারভেদ নিয়ে আলোচনা করবো। তাহলে চলুন শুরু করা যাক। এসইও এর এই প্রকারভেদ গুলো যে এসইও থেকে আলাদা তা কিন্তু নয়। মুলত এসইও এর বিশাল সেক্টরকে আলাদা করা হয়েছে যাতে সহজেই কাজ করা যায় সেজন্য। তাহলে SEO কত প্রকার ( এসইও এর প্রকারভেদ ) সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক –

  • টেকনিক্যাল এসইও
  • অন-পেজ এসইও
  • অফ-পেজ এসইও
  • কন্টেন্ট এসইও
  • লোকাল এসইও
  • মোবাইল এসইও
  • ই-কমার্স এসইও

তো বন্ধুরা, এখন চলুন বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক এসইও এর প্রকারভেদ গুলো সম্পর্কে।

seo কি, SEO কত প্রকার
seo কি, SEO কত প্রকার

১. টেকনিক্যাল এসইওঃ

এসইও এর এই প্রক্রিয়ায় মুলত টেকনিক্যাল বিষয়গুলো নিয়ে আলোকপাত করা হয়ে থাকে। টেকনিক্যাল প্যারামিটারগুলোর উন্নতি সাধনের মাধ্যমে সার্চ ইঞ্জিনে ওয়েবসাইটের ভিজিবিলিটি বাড়ানো হয় এই টেকনিক্যাল এসইও এর মাধ্যমে।

আচ্ছা আপনি কি জানেন টেকনিক্যাল এসইও এর মূল কাজ কি? প্রত্যেকটা সার্চ ইঞ্জিনের একটি করে ক্রলার থাকে। এই ক্রলার যাতে আপনার ওয়েবসাইটকে ক্রল করে এবং আপনার ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনে ইনডেক্স করতে পারে কোনও প্রকার সমস্যা ছাড়াই সেই বিষয়গুলো নিয়েই মূলত টেকনিক্যাল এসইও কাজ করে থাকে।

টেকনিক্যাল এসইও এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ টার্মস দেখে নিই চলুন –

  • সার্চ কনসোলে আপনার ওয়েবসাইটকে ভেরিফাই করা, সেই সাথে আপনার কাঙ্ক্ষিত ওয়েবসাইটকে নিশ্চিত করা।
  • Robots.txt কে অপ্টিমাইজ করা, যার ফলে সার্চ ইঞ্জিন নিশ্চিতভাবেই আপনার ওয়েবসাইটে এক্সেস করতে পারে ।
  • কভারেজ রিপোর্ট ব্যবহার করা যাতে ক্রল ইররস খুঁজে বের করা যায় এবং এগুলোর সমাধান করা যায়।
  • এর মাধ্যমে সাইট এর ডিজাইন এবং ইউআরএল স্ট্রাকচার অপ্টিমাইজ করা।
  • এসইও ফ্রেন্ডলি ওয়েব ডিজাইন ফলো করা।
  • এর মাধ্যমে ওয়েবসাইটের লোডিং স্পিডও বাড়ানো যায়।

২. অন-পেজ এসইওঃ

এসইও এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ টার্ম হচ্ছে অন-পেজ এসইও। এর মাধ্যমে মূলত ওয়েবসাইটের যে পেজ গুলো রয়েছে সেগুলোকে সার্চ ইঞ্জিনের নিকট ফ্রেন্ডলিভাবে উপ্সথাপন করার প্রচেষ্টা চালানো হয়। এখানে আরেকটি বিষয় লক্ষ্যণীয় যে – সার্চ ইঞ্জিন যখন একটি ওয়েবসাইট নিয়ে কাজকরে থাকে তখন ওয়েবসাইটের র‍্যাংকিং করে থাকে তার পেজের উপর ভিত্তি করে। আর মূলত এজন্যই ওয়েবসাইটের মালিকরা তাদের ওয়েবসাইটের অন-পেজের প্রতি অধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।

এসইও এর জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ গাইডলাইন দেখে নিই চলুন –

  • পেজ টাইটেল অপ্টিমাইজ করাঃ এসইও এর একটি জটিল কাজ হচ্ছে পেজ টাইটেল অপ্টিমাইজ করা। আপনার পেজ টাইটেল সার্চ ইঞ্জিনে দৃশ্যমান হবার পর সেটা যদি ইন্টারেস্টিং না হয় তাহলে ইউজাররা সেটাতে ক্লিক করবে না এটাই স্বাভাবিক। কাজেই পেজ টাইটেল এমনভাবে আপনাকে অপ্টীমাইজ করতে হবে যাতে ইউজাররা আপনার দেয়া পেজ টাইটেলের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে থাকে এবং ক্লিক করে আপনার সাইটে চলে আসে।
  • ওয়েবসাইটের H1 ট্যাগ অপ্টিমাইজ করাঃ H1 – H6 এই ছটি ট্যাগ থাকে মূলত একটি ওয়েবসাইটে । আর এদের প্রত্যেকটিকে বলা হয় হেডিং বা শিরোনাম ট্যাগ। আর এসইও এর ক্ষেত্রে H1 ট্যাগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনার আর্টিকেলের টপ হেডিং-এ যে হেডিংটা দিবেন সেটাই সার্প রেজাল্টে দেখাবে। সাধারণত একটি অপ্টিমাইজ পেজের একটি মাত্র H1 ট্যাগ থাকে।
  • অন্যান্য হেডিং ট্যাগ অপ্টিমাইজ করাঃ আগেই বলেছি যে H1 ট্যাগ ছাড়াও আরো অনেক হেডিং ট্যাগ আছে। আর H1 ট্যাগ এর পাশাপাশি আপনাকে ঐসকল হেডিং ট্যাগগুলোকেও অপ্টিমাইজ করতে হবে সার্চ রেজাল্টে ভালো করতে হলে। আপনার পেজের আর্টিকেল যদি অনেক লম্বা হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে আপনাকে অনেকগুলো সাব-হেডিং ব্যবহার করতে হবে যাতে আর্টিকেলটি রিডার ফ্রেন্ডলি হয়। আর বেশ কয়েকটি সাব-হেডিং ব্যবহার করলে সার্চ ইঞ্জিন ক্রলারও খুব সহজেই ঐ আর্টিকেলকে ক্রল করতে পারে।
  • ছবির জন্য এসইওঃ আমরা সাধারণত দেখে থাকি যে একটি আর্টিকেলে বেশ কয়েকটি ইমেজ বা ছবি সঙ্গযুক্ত থাকে। এই ছবিগুলোকেও ভালোভাবে এসইও করলে বেশ ভালো একটি সাড়া পাওয়া যায় সার্চ ইঞ্জিন থেকে। এছাড়াও অনেকেই তাদের পেজের জন্যও ছবি ব্যবহার করে থাকেন। এটি নিঃসন্দেহে ভালো জিনিস। অন্যথায় সার্চ ইঞ্জিন আইডেন্টিফাই করতে পারবে না যে আপনার পেজটি মূলত কিসের উপর তৈরী।
  • পেজ ফরমেটিংঃ ধুম করে যদি একটা পেজ খুলে বসে থাকেন তাহলেই তো ল্যাটা চুকে যায় না, তাই না? ঐ পেজে কোনো আর্টিকেল থাকবে কি না, কোনো ছবি থাকবে কি না সেগুলোও তো আপনাকে ঠিক করে দিতে হবে। পেজটি কিসের ঊপর তৈরী সেটাও তো আপনাকে তুলে ধরতে হবে, নাকি? আপনি যেভাবে একটি পেজকে দেখেন গুগল তো আর সেভাবে দেখে না। কারণ গুগল তো আর মানুষ নয়, তাই না? কাজেই গুগল যাতে বুঝতে পারে সেভাবেই আপনাকে আপনার পেজকে ফরমেটিং করতে হবে।

৩. কন্টেন্ট এসইওঃ

কন্টেন্ট এসইও কি? প্রথমেই এই প্রশ্নটা আসাটাই স্বাভাবিক। এটি মূলত অন-পেজ এসইও এর একটি পার্ট। একটি ওয়েবসাইটে ইউজাররা যায় কেনো? মূলত ঐ ওয়েবসাইট বা ব্লগে কি কি আর্টিকেল আছে সেগুলো পড়ার জন্য। কন্টেন্ট এসইও এর মাধ্যমে ঐ কন্টেন্ট/ আর্টিকেলগুলোকেই মডিফাই করা হয় যাতে কন্টেন্টগুলো আরো বেটার পজিশনে যেতে পারে।  এসইও এর সাক্সেস ফেক্টর যদি ধরে থাকেন তাহলে এটি হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফেক্টর। কাজেই এসইও তে জয়ী হতে হলে ইউজার ফ্রেন্ডলি কন্টেন্টের পাশাপাশি এটাকে এমনভাবে অপ্টিমাইজ করতে হবে যাতে সার্চ ইঞ্জিনও দ্রুত রেসপন্স করে থাকে।

কন্টেন্ট এসইও এর জন্য কিছু কমন গাইডলাইন নিচে দেয়া হলো-

  • এসইও কিওয়ার্ডসঃ কন্টেন্ট তৈরী করার জন্য আপগে আপনার আর্টিকেলের জন্য ভালো কিওয়ার্ড খুঁজে বের করুন। সবচেয়ে ভালো হয় যদি আপনি এসইও কিওয়ার্ড নিয়ে কাজ করতে পারেন। কারণ কন্টেন্ট এসইও করার জন্য এসইও কিওয়ার্ড গুরুত্বপূর্ণ আর এগুলো যদি আপনার আর্টিকেলে এপ্লাই করতে পারেন তাহলে তো কথাই নেই।

এসইও কিওয়ার্ডের ক্ষেত্রে আপনাকে বেশ কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। একধাপ যদি এগিয়ে যাই তাহলে আমাদের কাজ করতে হবে লং-টেইল কিওয়ার্ডস নিয়ে। এই লং-টেইল কিওয়ার্ডস গুলোকে আপনি আপনার কন্টেন্ট, হেডিঙয়ে অথবা টাইটেলে এপ্লাই করতে পারেন।

এছাড়াও কন্টেন্ট পাবলিশ করার সময় খেয়াল রাখতে হবে যেনো আর্টিকেলটি একটু লম্বা হয়ে থাকে। আর আপনার এই আর্টিকেলে যেনো ইউজাররা যা চাই তাই যেনো থাকে। তাহলে ইউজাররাও আপনার ব্লগ/ওয়েবসাইটের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে থাকবে।

এখন এগুলো যদি বাদ দেই তাহলে আসছে লিংকিং এর ব্যাপার। আর্টিকেল তো পাবলিশ করলেই হবে না তাই না? আপনি যে টপিক নিয়ে লিখবেন সেটার সাথে রিলেটেড এবং অন্যান্য ওয়েবসাইটের ভাল আর্টিকেল আপনার সাইটে যদি লিংক করে দেন তাহলে ইউজাররা আরো ডিটেইল্ড ইনফরমেশন পেয়ে যাবে।

seo কি, এসইও এর প্রকারভেদ
seo কি ? SEO কত প্রকার

৪. অফ পেজ এসইওঃ

আচ্ছা আপনি কি জানেন? অফ-পেজ এসইও মানেই প্রমোশন? অন্যান্য এসইও ধরণগুলো যেখানে ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট বা গঠনের উপর জোর দিয়ে থাকে সেখানে অফ-পেজ এসইও এর মাধ্যমে ওয়েবসাইটকে ইন্টারনেটে প্রমোট করার জন্য কিছু টেকনিক অনুসরণ করা হয়। সাধারণত যেসকল ওয়েবসাইট খুবই পপুলার তারা কম জনপ্রিয় ওয়েবসাইটের চেয়ে স্বাভাবিকভাবেই বেশি এগিয়ে থাকে গুগলের সার্চ রেজাল্টে । আচ্ছা আপনি কি জানেন অফ-পেজ এসইও এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফেক্টর গুলো কি? চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক –

  • লিংক বিল্ডিংঃ আপনার ওয়েবসাইট বা ব্লগের জন্য এসইও এর মাধ্যমে ব্যাকলিংক পেতে গেলে আপনাকে লিংক বিল্ডিং করতে হবে। এই ব্যাকলিংকের মাধ্যমেই মূলত একটি ওয়েবসাইটের অথোরিটি বৃদ্ধি পায়। তবে লিংক বিল্ডিং এর সময় একটা জিনিস খেয়াল রাখতে হবে আপনাকে যারা ব্যাকলিংক দিচ্ছে তারা যেনো সবসময় ডু-ফলো [ Do-Follow ] লিংক দিয়ে থাকে।
  • ব্রান্ড প্রোমোশনঃ গুগল পপুলার ব্রান্ড গুলোকেই তার সার্চ রেজাল্টে প্রাধান্যতা দিয়ে থাকে। শুধু ব্যাকলিংকের জন্য কাজকরলেই হবে না, আপনার ওয়েবসাইটকে ব্রান্ড হিসেবে দাড় করাতে হলে সেটার প্রোমোশনও করতে হবে। সেজন্য আপনাকে আপনার ওয়েবসাইটকে বিভিন্ন ফোরাম, সোশাল মিডিয়ায় আপনার প্রোমোশনের কাজ চালাতে হবে।

৫. লোকাল এসইওঃ

এবার আসি লোকাল এসইও এর ব্যাপারে। এটি মূলত লোকাল বিজনেসের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। এই বিষয়টা ক্লিয়ার করতে হলে একটা ছোট্ট উদাহরণ দিতে হবে।

ধরে নিন আপনার একটি ওয়েবসাইট আছে যার মাধ্যমে আপনি আপনার ব্যবসা পরিচালনা করতে চাচ্ছেন আপনার এলাকায়। তো নিজের এলাকায় কাজ করলে আপনার মুল ক্লায়েন্টসই হবে আপনার এলাকার মানুষ, রাইট? যে এসইও শুধু নির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক হয়ে থাকে সেটিই হচ্ছে লোকাল এসইও। আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই এসইও সাধারণত বিজনেসের জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আর বিজনেসের জন্য ব্যবহার করতে হলে আপনাকে ব্যবসার নাম, ঠিকানা, কন্টাক্ট সবকিছু ঠিকঠাকভাবে উল্লেখ করতে হবে ।

লোকাল এসইও এর কিছু কমন ফেক্টস দেখে নিই চলুন –

  • হোমপেজে লোকাল বিজনেস স্কিমা এড করতে হবে
  • গুগল মাই বিজনেস একাউন্ট তৈরী করতে হবে।
  • ট্রাস্টেড ডিরেক্টরিতে আপনার বিজনেসকে রেজিস্টার করাতে হবে ।
  • লোকাল ডিরেক্টরিতে আপনার বিজনেসকে প্রোমোট করতে হবে।

৬. মোবাইল এসইওঃ

মোবাইল এসইও এর কথা শুনে অনেকেই হয়তো অবাক হবেন। তবে অবাক হবার কিছু নেই। বিস্তারিত বলছি । মোবাইল এসইও হচ্ছে এসইও এর এমন একটি ধরণ যা সাধারণত মোবাইল ডিভাইসের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।  আপনি হয়তো খেয়াল করে থাকবেন বিশ্বে যত ইন্টারনেট ব্যবহারকারী রয়েছে তাদের বেশিরভাগই এখন মোবাইল ব্যবহারকারী। [ স্মার্টফোন ব্যবহারকারী ]।

আর এজন্যই গুগল ওয়েবসাইটের মোবাইল ফ্রেন্ডলি ভার্সনের উপরও অধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকে সাইটকে ইন্ডেক্স করার সময়ে। মোবাইল এসইও এর ক্ষেত্রে আপনাকে যেসকল বিষয় খেয়াল রাখতে হবে সেগুলো কি কি চলুন দেখে নেয়া যাক –

  • আপনার ওয়েবসাইট যদি মোবাইল ফ্রেন্ডলি হয়ে থাকে তাহলে মোবাইল ফ্রেন্ডলি টেস্ট করে নিতে পারেন
  • মোবাইলের ক্ষেত্রে আপনার ওয়েবসাইট কতটুকু ফাস্ট সেটা দেখবেন
  • ওয়েবসাইটটি মোবাইল ফ্রেন্ডলি কি না সেটাও দেখতে হবে
  • মোবাইল ফ্রেন্ডলি ভার্সনে অতিরিক্ত পপ আপ কিংবা এদ আসছে কি না সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।

৭. ই-কমার্স এসইওঃ

ই-কমার্স সাধারণত একটি বিশাল একটি সেক্টর। এই সেক্টরে রয়েছে ইউজ অপরচুনিটি। আর যদি এসইও এর কথা বলা হয় তাহলে ধরেই নিতে হবে ই-কমার্সের এসইও এর জন্যও রয়েছে বিশাল একটি সুযোগ। সাধারণ ওয়েবসাইট বা ব্লগকে সারচ ইঞ্জিনে অপ্টিমাইজ করার চাইতেও ই-কমার্স সাইটকে সার্চ ইঞ্জিনে অপ্টিমাইজ করা অনেক জটিল। কারণ একটি ওয়েবসাইটে যেখানে ৪/৫/৬/৭/৮ টি পেজ থাকে সেখানে একটি ই-কমার্স সাইটে থাকে শত শত পেজ। ব্রান্ড প্রোমোশনের ক্ষেত্রেও বিষয়টা অনেক জটিল। তবে ই-কমার্স এসইও করার ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলোর প্রতি বিষেষ ভাবে নজর দিতে হবে সেগুলো কি কি চলুন দেখে নিই তাহলে –

  • কিওয়ার্ড রিসার্চের উপর ভিত্তি করে আপনার ওয়েবসাইটের প্রোডাক্ট পেজগুলোকে অপ্টিমাইজ করতে হবে
  • ই-কমার্স সাইটের ইমেজ বা ভিডিও যা আছে সেগুলোকেও অপ্টিমাইজ করা
  • প্রোডাক্ট বা অফারের সাথে প্রয়োজনীয় স্কিমা এড করে দেয়া
  • সোশ্যাল মিডিয়া নেটওয়ার্কে  আপনার ই-কমার্স সাইটকে প্রোমোট করা
  • প্রোডাক্ট পেজে যাতে মানুষ লিংক ব্যবহার করে আসতে পারে সে ব্যপারে গতানুগতিক পদ্ধতির বাইরে গিয়ে ভিন্নকিছু চিন্তা করা ।
  • চাইলে একটি ব্লগ খুলে ফেলতে পারেন যেখানে আপনি আপনার প্রোডাক্ট রিলেটেড আর্টিকেল লিখতে পারেন।

উপরে উল্লিখত এসইও এর যে ধরণ রয়েছে এগুলোর বাইরে আরো দু ধরণের এসইও রয়েছে। জানবেন না সেগুলো কি কি? চলুন তাহলে দেখে নিই-

১. হোয়াইট হ্যাট এসইওঃ

সার্চ ইঞ্জিনের রুলস মেনে সাধারণত যে এসইও করা হয়ে থাকে তাকে হোয়াইট হ্যাট এসইও বলা হয়ে থাকে।  হোয়াইট হ্যাট এসইও এর ক্ষেত্রে বেশ কিছু জিনিস মেনে চলতে হয় যেমন –

  • কোয়ালিটি কন্টেন্ট
  • প্রোপার কিওয়ার্ড অপ্টিমাইজেশন
  • মোবাইল ফ্রেন্ডলি ওয়বসাইট
  • কোয়ালিটি ব্যাকলিংক
  • ইন্টারনাল লিংকিং
  • ওয়েবসাইট লোডিং স্পিড

২. ব্ল্যাক হ্যাট এসইওঃ

এই SEOপদ্ধতিকে সাধারণত আমি সাজেস্ট করবো না। এসইও এর কোনো নিয়ম নীতিই এই পদ্ধতিতে মানা হয় না বলে একে ব্ল্যাক হ্যাট এসইও বলা হয়ে থাকে। এই এসইও পদ্ধতিতে যদি আপনি সার্চ রেজাল্টে আপনার ওয়েবসাইটকে উপরে নিয়ে আসতে চান তাহলে হয়তো বা নিয়ে আসতে পারবেন কিন্তু সার্চ ইঞ্জিন থেকে আপনার সাইট যদি বাতিল হয়ে যায় তখন কি করবেন? কাজেই এই পদ্ধতি অবলম্বন করা মোটেও উচিত হবে না।

ব্ল্যাক হ্যাট SEO এর কিছু টেকনিকগুলো চলুন দেখে নিই-

  • কিওয়ার্ড সার্ফিং
  • আনরিলেটেড মেটা ডেসক্রিপশন
  • ডুপ্লিকেট কন্টেন্ট
  • ইনভিসিবল কিওয়ার্ড
  • লিংক ফার্মিং
  • ইরিলেটেড ব্যাকলিংক

এখন স্বাভাবিকভাবেই আপনার জিজ্ঞেস করতে পারেন এ দুইটি এসইও পদ্ধতির মধ্যে কোনটি বেশি কার্যকরী? এ দুটির মধ্যে হোয়াইট হ্যাট এসইও হচ্ছে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী। তবে আপনি যদি আপনার সাইটকে গুগল থেকে পেনাল্টি খাওয়াতে চান তাহলে ব্ল্যাক হ্যাট এসইও ফলো করতে পারেন। হা হা হা হা।

এসইও শেখার কিছু রিসোর্সঃ

বন্ধুরা এখানে আমি এসইও শেখার বেশকিছু রিসোর্স সম্পর্কে আলোচনা করবো। আলোচনা বললে ভুল হবে শুধু রিসোর্স গুলোর নাম উল্লেখ করে দেবো। আপনারা রিসোর্স থেকে প্রয়োজন মতো জেনে নিবেন। আর এই রিসোর্স থেকে আপনি জানতে পারবেন SEO এর কাজ কি এবং SEO এর কাজ শেখার উপায় গুলো কি কি।

তো বন্ধুরা, আশা করছি SEO কত প্রকার ( এসইও এর প্রকারভেদ ) সেই সম্পর্কে আপনারা অনেকটাই ক্লিয়ার হয়ে গেছেন। তারপরও যদি কিছু জানার থাকে বা কোনো ভুল ভ্রান্তি থেকে থাকে তাহলে নিচের কমেন্ট বক্সের মাধ্যমে আমামকে জানিয়ে দিবেন। ধন্যবাদ ।

 

asassa

About Post Author

Anup Deb Nath

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %

Anup Deb Nath

2 thoughts on “SEO কি? এসইও এর প্রকারভেদ গুলো কি কি?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top
error: Content is protected !!